Forest Rules, 2010

Forest Rules(Please Click Here)

Social Forestry (Amended) Rules 2010

Social Forestry (Amended) Rules 2010 [Click Here to Download]

CHT Bazar Fund Mannual, 1937 (Bangla)

 

Please click for CHT Bazar Fund Manual, 1937

CHT Regulation, 1900 (Bangla)

Please Click for  CHT Regulation (Bangla)

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯

 

( ২০০৯ সনের ৫৩ নং আইন )

[জুলাই ১৪, ২০০৯]

 

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠাকল্পে প্রণীত আইন

যেহেতু গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানে মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং নিশ্চিতকরণ রাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য; এবং

যেহেতু মানবাধিকার সংরক্ষণ, উন্নয়ন এবং মানবাধিকার যথাযথভাবে নিশ্চিত করিবার উদ্দেশ্যে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নামে একটি কমিশন প্রতিষ্ঠা করা এবং এতদুদ্দেশ্যে বিধান প্রণয়ন করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

প্রথম অধ্যায়

প্রারম্ভিক

সংক্ষিপ্ত শিরোনাম ও প্রবর্তন     

১৷(১) এই আইন জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন, ২০০৯ নামে অভিহিত হইবে৷

(২) ইহা ১ সেপ্টেম্বর, ২০০৮ তারিখে কার্যকর হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

সংজ্ঞা        

২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে –

(ক)    “কমিশন” অর্থ জাতীয় মানবাধিকার কমিশন;

(খ)    “চেয়ারম্যান” অর্থ কমিশনের চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্বপালনরত কোন ব্যক্তি;

(গ)    “জনসেবক” অর্থ দণ্ডবিধির section 21 এ public servant যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক;

(ঘ)    “দণ্ডবিধি” অর্থ Penal Code, 1860 (I of 1860);

(ঙ) “বিধি” অর্থ এই অধ্যাদেশের অধীন প্রণীত বিধি;

(চ) “মানবাধিকার” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান দ্বারা নিশ্চিত কোন ব্যক্তির জীবন (Life), অধিকার (Liberty), সমতা (Equality) ও মর্যাদা (Dignity) এবং গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ কর্তৃক অনুসমর্থিত এবং বাংলাদেশের প্রচলিত আদালত দ্বারা বলবৎযোগ্য বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলে ঘোষিত মানবাধিকার;

(ছ) “শৃঙ্খলা-বাহিনী” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫২(১) অনুচ্ছেদে উল্লেখিত শৃঙ্খলা-বাহিনী;

(জ) “সদস্য” অর্থ কমিশনের কোন সদস্য এবং চেয়ারম্যানও ইহার অন্তর্ভুক্ত হইবেন;

(জ) “সাক্ষ্য আইন” অর্থ Evidence Act, 1872(I of 1872);

(ঞ) “সংবিধান” অর্থ গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান।

দ্বিতীয় অধ্যায়

মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা

জাতীয় মানবাধিকার কমিশন প্রতিষ্ঠা      

৩৷ (১) এই আইন বলবৎ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে এবং উহার বিধান অনুসারে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন নামে একটি কমিশন প্রতিষ্ঠিত হইবে৷

(২) কমিশন একটি সংবিধিবদ্ধ স্বাধীন সংস্থা হইবে এবং উহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা থাকিবে এবং এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করিবার, অধিকারে রাখিবার এবং হস্তান্তর করিবার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধেও মামলা দায়ের করা যাইবে৷

(৩) কমিশনের একটি সীলমোহর থাকিবে, যাহা কমিশনের সচিবের হেফাজতে থাকিবে৷

 

কমিশনের কার্যালয়    

৪। কমিশনের প্রধান কার্যালয় ঢাকায় হইবে এবং কমিশন প্রয়োজনে বিভাগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ইহার কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে।

কমিশন গঠন        

৫। (১) চেয়ারম্যান ও অনধিক ছয়জন সদস্য সমন্বয়ে কমিশন গঠিত হইবে।

(২) কমিশনের চেয়ারম্যান ও একজন সদস্য সার্বক্ষণিক হইবেন এবং অন্যান্য সদস্যগণ অবৈতনিক হইবেন।

(৩) কমিশনের সদস্যগণের মধ্যে কমপক্ষে একজন মহিলা এবং একজন নৃতাত্তিক (Ethnic) জনগোষ্ঠীর সদস্য হইতে হইবে।

(৪) চেয়ারম্যান কমিশনের প্রধান নির্বাহী হইবেন।

চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নিয়োগ, মেয়াদ, পদত্যাগ, ইত্যাদি    

৬। (১) রাষ্ট্রপতি, বাছাই কমিটির সুপারিশক্রমে, কমিশনের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণকে নিয়োগ করিবেন :

তবে র্শত থাকে যে, কোন ব্যক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান বা সদস্য পদে নিয়োগ লাভের বা অধিষ্ঠিত থাকিবার যোগ্য হইবেন না যদি তিনি ৩৫ (পঁয়ত্রিশ) বৎসর অপেক্ষা কম এবং ৭০ (সত্তর) বৎসর অপেক্ষা অধিক বয়স্ক হন।

(২) আইন বা বিচার কার্য, মানবাধিকার, শিক্ষা, সমাজসেবা বা মানবকল্যাণে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখিয়াছেন এমন ব্যক্তিদের মধ্য হইতে চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ, এই ধারার বিধান সাপেক্ষে, নিযুক্ত হইবেন।

(৩) কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যগণ কার্যভার গ্রহণের তারিখ হইতে তিন বৎসর মেয়াদে স্বীয় পদে অধিষ্ঠিত থাকিবেনঃ

তবে শর্ত থাকে যে, একই ব্যক্তি চেয়ারম্যান বা সদস্য হিসাবে দুই মেয়াদের অধিক নিয়োগ লাভ করিবেন না।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন নির্ধারিত মেয়াদ শেষ হইবার পূর্বে চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য রাষ্ট্রপতির উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যে কোন সময় স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৫) চেয়ারম্যানের পদ শূন্য হইলে কিংবা অনুপস্থিতি, অসুস্থতা বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নবনিযুক্ত চেয়ারম্যান তাহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত কিংবা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত সার্বক্ষণিক সদস্য চেয়ারম্যান হিসাবে দায়িত্ব পালন করিবেন।

বাছাই কমিটি          

৭। (১) চেয়ারম্যান ও সদস্য নিয়োগের লক্ষ্যে সুপারিশ প্রদানের জন্য নিম্নবর্ণিত সাত জন সদস্য সমন্বয়ে একটি বাছাই কমিটি গঠিত হইবে, যথাঃ-

(ক) জাতীয় সংসদের স্পীকার, যিনি ইহার সভাপতিও হইবেন;

(খ) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী;

(গ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে নিয়োজিত মন্ত্রী;

(ঘ) চেয়ারম্যান, আইন কমিশন;

(ঙ) মন্ত্রি পরিষদ সচিব, মন্ত্রি পরিষদ বিভাগ;

(চ) জাতীয় সংসদের স্পীকার কর্তৃক মনোনীত দুইজন সংসদ-সদস্য, যাহাদের মধ্যে একজন সরকার দলীয় এবং অন্যজন বিরোধী দলীয় হইবেন।

(২) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় বাছাই কমিটির কার্য-সম্পাদনে প্রয়োজনীয় সাচিবিক সহায়তা প্রদান করিবে।

(৩) অন্যুন ৪ (চার) জন সদস্যের উপস্থিতিতে বাছাই কমিটির কোরাম গঠিত হইবে।

(৪) বাছাই কমিটি, চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ নিয়োগে সুপারিশ প্রদানের উদ্দেশ্যে সভায় উপস্থিত সদস্যগণের সংখ্যাগরিষ্ঠের সিদ্ধানত্দের ভিত্তিতে প্রতিটি শূন্য পদের বিপরীতে দুই জন ব্যক্তির নাম সুপারিশ করিবে এবং সিদ্ধান্তের সমতার ৰেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির নির্ণায়ক সিদ্ধান্ত প্রদানের অধিকার থাকিবে।

(৫) বাছাই কমিটি উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

চেয়ারম্যান ও সদস্যের অপসারণ        

৮। (১) সুপ্রীম কোর্টের একজন বিচারক যেরূপ কারণ ও পদ্ধতিতে অপসারিত হইতে পারেন, সেইরূপ কারণ ও পদ্ধতি ব্যতীত চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে অপসারণ করা যাইবে না।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, রাষ্ট্রপতি চেয়ারম্যান বা অন্য কোন সদস্যকে তাহার পদ হইতে অপসারণ করিতে পারিবেন, যদি তিনি-

(ক) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত হন; বা

(খ) চেয়ারম্যান ও সার্বক্ষণিক সদস্যের ক্ষেত্রে পারিশ্রমিকের বিনিময়ে স্বীয় দায়িত্ব বহির্ভুত অন্য কোন পদে নিয়োজিত হন; বা

(গ) কোন উপযুক্ত আদালত কর্তৃক অপ্রকৃতস্থ ঘোষিত হন; বা

(ঘ) নৈতিক স্খলনজনিত কোন অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হন।

সদস্যপদে শূন্যতার কারণে কার্য বা কার্যধারা অবৈধ না হওয়া            

৯। শুধুমাত্র কোন সদস্যপদে শূন্যতা বা কমিশন গঠনে ত্রুটি থাকিবার কারণে কমিশনের কোন কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না বা তৎসম্পর্কে কোন প্রশ্নও উত্থাপন করা যাইবে না৷

সদস্যগণের বেতন, ভাতা, ইত্যাদি  

১০। (১) চেয়ারম্যান সুপ্রীম কোর্টের আপীল বিভাগের একজন বিচারকের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পাইবার অধিকারী হইবেন।

(২) সার্বক্ষণিক সদস্য সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগের একজন বিচারকের বেতন, ভাতা ও অন্যান্য সুবিধাদি পাইবার অধিকারী হইবেন।

(৩) অবৈতনিক সদস্যগণ কমিশনের সভায় যোগদানসহ অন্যান্য দায়িত্ব সম্পাদনের জন্য কমিশন কর্তৃক নির্ধারিত হারে সম্মানী ও ভাতা পাইবেন।

কমিশনের সভা         

১১। (১) এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, কমিশন উহার সভার কার্যপদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে।

(২) চেয়ারম্যান কমিশনের সকল সভায় সভাপতিত্ব করিবেন এবং তাহার অনুপস্থিতিতে সার্বক্ষণিক সদস্য সভায় সভাপতিত্ব করিবেন।

(৩) চেয়ারম্যান এবং অন্যূন ৩ (তিন) জন সদস্যের উপস্থিতিতে কমিশনের সভার কোরাম গঠিত হইবে।

(৪) কমিশনের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রত্যেক সদস্যের একটি ভোট থাকিবে এবং ভোটের সমতার ক্ষেত্রে সভায় সভাপতিত্বকারী ব্যক্তির দ্বিতীয় বা নির্ণায়ক ভোট প্রদানের অধিকার থাকিবে।

(৫) প্রতি দুইমাসে কমিশনের কমপক্ষে একটি সভা অনুষ্ঠিত হইবে।

তৃতীয় অধ্যায়

কমিশনের কার্যাবলী ও তদন্তের ক্ষমতা

কমিশনের কার্যাবলী      

১২। কমিশন নিম্নবর্ণিত সকল বা যেকোন কার্যাবলী সম্পাদন করিবে, যথা :-

(ক)    কোন ব্যক্তি, রাষ্ট্রীয় বা সরকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান বা সংগঠন কর্তৃক মানবাধিকার লংঘন বা লংঘনের প্ররোচনা সম্পর্কিত কোন অভিযোগ স্বতঃই বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত করা;

(খ)    কোন জনসেবক কর্তৃক মানবাধিকার লংঘন বা লংঘনের প্ররোচনা বা অনুরূপ লংঘন প্রতিরোধে অবহেলা করা সম্পর্কিত কোন অভিযোগ স্বতঃই বা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বা তাহার পক্ষে অন্য কোন ব্যক্তি কর্তৃক দাখিলকৃত আবেদনের ভিত্তিতে তদন্ত করা ;

(গ) জেল বা সংশোধনাগার, হেফাজত, চিকিৎসা বা ভিন্নরূপ কল্যাণের জন্য মানুষকে আটক রাখা হয় এমন কোন স্থানের বাসিন্দাদের বসবাসের অবস্থা পরিদর্শন করা এবং এইরূপ স্থান ও অবস্থার উন্নয়নের জন্য সরকারের নিকট প্রয়োজনীয় সুপারিশ প্রদান করা;

(ঘ)    মানবাধিকার সংরক্ষণের জন্য সংবিধান বা আপাততঃ বলবৎ কোন আইনের অধীন স্বীকৃত ব্যবস্থাদি পর্যালোচনা করা এবং উহাদের কার্যকর বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ করা ;

(ঙ)    মানবাধিকার সংরক্ষণের পথে বাধা স্বরূপ সন্ত্রাসী কার্যক্রমসহ বিষয়গুলি পর্যালোচনা করা এবং যথাযথ প্রতিকারের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ করা;

(চ)    মানবাধিকার বিষয়ক চুক্তি এবং অন্যান্য আন্তর্জাতিক দলিলাদির উপর গবেষণা করা এবং উহাদের বাস্তবায়নের জন্য সরকারের নিকট সুপারিশ করা ;

(ছ)    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার এর মানের সহিত কোন প্রস্তাবিত আইনের সাদৃশ্য পরীক্ষা করা এবং আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলের সহিত উহাদের সমন্বয় নিশ্চিত করিবার স্বার্থে যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট প্রয়োজনীয় সংশোধন সুপারিশ করা;

(জ)    আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দলিলের অনুসমর্থন বা উহাতে স্বাক্ষর প্রদানে সরকারকে পরামর্শ প্রদান এবং উহাদের বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা;

(ঝ)    মানবাধিকার বিষয়ে গবেষণা করা এবং শিক্ষা ও পেশাগত প্রতিষ্ঠানে উহাদের বাস্তবায়নে ভূমিকা পালন করা;

(ঞ)    সমাজের বিভিন্ন শ্রেণীর লোকজনের মধ্যে মানবাধিকার শিক্ষার প্রচার এবং প্রকাশনা ও অন্যান্য উপায়ে মানবাধিকার সংরক্ষণ সম্বন্ধে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা;

(ট)    মানবাধিকার বিষয়ে বে-সরকারী সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রমের প্রচেষ্টাকে উৎসাহ প্রদান এবং উক্তরূপ সংস্থা বা প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম সমন্বয় করা;

(ঠ)    মানবাধিকার লংঘন বা লংঘিত হইতে পারে এমন অভিযোগের উপর তদন্ত ও অনুসন্ধান করিয়া মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে অভিযোগের নিষ্পত্তি করা;

(ড)    মানবাধিকার সংরক্ষণ ও উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় আইন ও প্রশাসনিক নির্দেশনা প্রণয়নের ব্যাপারে সরকারকে পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান করা;

(ঢ)    দেশের প্রচলিত আইন ও প্রশাসনিক কর্মসূচীর মাধ্যমে গৃহীতব্য ব্যবস্থা যাহাতে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার মানের ও নিয়মের হয় সেই লক্ষ্যে সরকারের নিকট সুপারিশ করা;

(ণ) মানবাধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে কর্মরত সংগঠন বা প্রতিষ্ঠান এবং সাধারণভাবে সুশীল সমাজকে পরামর্শ ও সহায়তা প্রদান করা;

(ত)    মানবাধিকার বিষয়ে গবেষণা, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ এবং অনুরূপ অন্যবিধ ব্যবস্থার মাধ্যমে গণসচেতনতা বৃদ্ধি করা এবং গবেষণালব্ধ ফলাফল প্রকাশ ও প্রচার করা;

(থ) মানবাধিকার সংরক্ষণ বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রশিক্ষণ প্রদান করা;

(দ) কমিশনে অভিযোগ দায়েরের জন্য সংৰুব্ধ ব্যক্তি বা সংৰুব্ধ ব্যক্তির পৰে অন্য কোন ব্যক্তিকে আইনী সহায়তা প্রদান করা; এবং

(ধ) মানবাধিকার উন্নয়নের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় বিবেচিত অন্য যেকোন কার্য করা।

(২) উপ-ধারা (১) এ যাহা কিছুই থাকুক না কেন, নিম্নবর্ণিত বিষয়গুলি কমিশনের কার্যাবলী বা দায়িত্বের অন্তর্ভুক্ত হইবে না, যথা :-

(ক)    আদালতে বিচারাধীন মামলার কোন বিষয়;

(খ)    ন্যায়পাল আইন, ১৯৮০ (১৯৮০ সনের ১৫ নং আইন) এর অধীন ন্যায়পাল কর্তৃক বিবেচ্য কোন বিষয়;

(গ)    প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত সরকারী কর্মচারী এবং সংবিধিবদ্ধ সরকারী কর্তৃপক্ষের কর্মে নিযুক্ত কর্মচারীর চাকুরী সংক্রান্ত এমন কোন বিষয় যাহা Administrative Tribunals Act, 1980( VII of 1981) এর অধীন স্থাপিত ট্রাইব্যুনালে বিচারযোগ্য৷

সুপ্রীম কোর্ট হইতে রেফারেন্স    

১৩। সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন আবেদন হইতে উদ্ভূত কোন বিষয় তদন্ত ক্রমে প্রতিবেদন পেশ করিবার জন্য সুপ্রীম কোর্ট কমিশনের নিকট প্রেরণ করিতে পারিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রেরিত বিষয়ে কমিশন তদন্ত করিয়া রেফারেন্সে উল্লিখিত সময়সীমা, যদি থাকে, এর মধ্যে সুপ্রীম কোর্টে প্রতিবেদন প্রেরণ করিবে৷

মানবাধিকার লংঘন প্রকাশ পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যবস্থা        

১৪। কমিশন কর্তৃক পরিচালিত তদন্তে যদি মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা প্রকাশ পায়, তাহা হইলে কমিশন বিষয়টি মধ্যস্থতা ও সমঝোতার মাধ্যমে নিষ্পত্তির ব্যবস্থা করিতে পারিবে৷

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন ব্যবস্থিত মধ্যস্থতা ও সমঝোতা সফল না হইলে-

(ক) মানবাধিকার লংঘনকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা বা অন্য কোন কার্যধারা দায়ের করিবার জন্য কমিশন যথাযথ কর্তৃপক্ষের নিকট সুপারিশ করিবে;

(খ)    মানবাধিকার লংঘন প্রতিরোধ বা প্রতিকারের উদ্দেশ্যে যথাযথ কর্তৃপক্ষ বা ব্যক্তির নিকট সুপারিশ করিবে৷

(৩)    মানবাধিকার লংঘন করিয়াছেন বা করিতে উদ্যত হইয়াছেন এমন সংশ্লিষ্ট অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শুনানীর সুযোগ না দিয়া কমিশন এই ধারার অধীন কোন সুপারিশ করিবে না৷

(৪)    এই ধারার অধীন কমিশন প্রদত্ত সুপারিশের একটি কপি কমিশন অভিযোগকারীর নিকট প্রেরণ করিবে৷

(৫)    যে ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের নিকট এই ধারার অধীন সুপারিশ প্রেরণ করা হয় উক্ত ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষকে কমিশন সুপারিশ অনুযায়ী গৃহীত ব্যবস্থা সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রদানের জন্য আহবান করিতে পারিবে এবং যাচিত প্রতিবেদন দাখিল করা উক্তরূপ ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব হইবে৷

(৬)    এই ধারার অধীন সুপারিশ প্রেরণ করা হইয়াছে এমন কোন ব্যক্তি বা কর্তৃপক্ষ যদি প্রার্থিত প্রতিবেদন প্রেরণ করিতে ব্যর্থ হন বা প্রেরিত প্রতিবেদনে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী গৃহীত বা প্রস্তাবিত ব্যবস্থা কমিশনের মতে অপর্যাপ্ত হয়, তাহা হইলে কমিশন যথাযথ বিবেচনা করিলে ঘটনাটির পূর্ণ বিবরণ রাষ্ট্রপতির নিকট দাখিল করিবে এবং রাষ্ট্রপতি উক্ত প্রতিবেদনের কপি সংসদে উত্থাপনের ব্যবস্থা করিবেন৷

 

মধ্যস্থতা বা সমঝোতাকারী নিয়োগ      

১৫। (১) কোন বিষয় এই আইনের অধীন মধ্যস্থতা বা সমঝোতার জন্য প্রেরণ করা হইলে কমিশন এক বা একাধিক ব্যক্তিকে পক্ষগুলির মধ্যে মধ্যস্থতা বা সমঝোতার জন্য নিয়োগ করিবে।

(২) মধ্যস্থতা ও সমঝোতাকারীর নিয়োগের পদ্ধতি এবং ক্ষমতা বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে৷

(৩)    কমিশন সংশ্লিষ্ট পক্ষগণকে মধ্যস্থতা ও সমঝোতার জন্য মধ্যস্থতা বা সমঝোতাকারীর সম্মুখে হাজির হইবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷

(৪)    মধ্যস্থতা ও সমঝোতাকারীদের অধিবেশন উম্মুক্তভাবে বা গোপনীয়ভাবে অনুষ্ঠিত হইতে পারিবে৷

(৫) মধ্যস্থতা বা সমঝোতা না হইলে বা কোন পক্ষ মধ্যস্থতা বা সমঝোতায় আপত্তি করিলে, মধ্যস্থতা বা সমঝোতাকারী বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করিবেন৷

(৬)    যদি মধ্যস্থতা বা সমঝোতার মাধ্যমে কোন বিষয় সমঝোতা করিতে সক্ষম হয়, তাহা হইলে মধ্যস্থতা বা সমঝোতাকারী মীমাংসার বিষয়টি কমিশনকে অবহিত করিবে৷

(৭) উপ-ধারা (৬) এর অধীন মীমাংসা কার্যকর করণার্থে কমিশন তৎকর্তৃক যথাযথ বিবেচিত জরিমানা প্রদানের নির্দেশসহ অন্যান্য নির্দেশ দিতে পারিবে৷

তদন্ত সম্পর্কিত ক্ষমতা        

১৬। এই আইনের অধীন অনুসন্ধান বা তদন্তের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত বিষয়ে কমিশনের দেওয়ানী কার্যবিধি, ১৯০৮ (১৯০৮ সালের ৫ নং আইন) এর অধীন একটি দেওয়ানী আদালতের অনুরূপ ক্ষমতা থাকিবে, যথা :-

(ক) সাক্ষীর সমন ও উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ এবং সাক্ষীকে জিজ্ঞাসাবাদ করা;

(খ) কোন লিখিত বা মৌখিক সাক্ষ্য শপথের মাধ্যমে প্রদানের জন্য তলব করা;

(গ) বাংলাদেশে বসবাসকারী কোন ব্যক্তিকে কমিশনের কোন বৈঠকে উপস্থিত হইয়া সাক্ষ্য দেওয়া বা তাহার দখলে আছে এমন কোন দলিল উপস্থাপন করিবার জন্য তলব করা;

(ঘ) তদন্ত বা অনুসন্ধানে জনগণের অংশগ্রহণ অনুমোদন বা অননুমোদন করা।

অভিযোগের অনুসন্ধান      

১৭। (১) কমিশন, মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগ অনুসন্ধানকালে তদ্কর্তৃক নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সরকার বা তদ্‌ধীন কর্তৃপক্ষ বা সংস্থার নিকট হইতে প্রতিবেদন বা তথ্য চাহিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন বা তথ্য প্রাপ্ত না হইলে কমিশন নিজ উদ্যোগে অনুসন্ধান শুরম্ন করিতে পারিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য প্রাপ্তির পর কমিশন যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে,-

(ক) বিষয়টি অধিকতর অনুসন্ধানের প্রয়োজন নাই; বা

(খ) সংশ্লিষ্ট বিষয়ে সরকার বা ক্ষেত্রমত, কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করিয়াছে বা গ্রহণের উদ্যোগ গ্রহণ করিয়াছে-

তাহা হইলে কমিশন এই বিষয়ে অনুসন্ধানের উদ্যোগ গ্রহণ করিবে না।

শৃঙ্খলা বাহিনীর ক্ষেত্রে অনুসরণীয় পদ্ধতি    

১৮। (১) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, শৃঙ্খলা বাহিনীর বা ইহার সদস্যের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লংঘনের অভিযোগের ক্ষেত্রে কমিশন নিজ উদ্যোগে বা কোন দরখাস্তের ভিত্তিতে সরকারের নিকট হইতে প্রতিবেদন চাহিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদন চাওয়া হইলে সরকার সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কমিশনের নিকট একটি প্রতিবেদন দাখিল করিবে।

(৩) উপ-ধারা (২) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর কমিশন,

(ক) সন্তুষ্ট হইলে, এই বিষয়ে আর কোন উদ্যোগ গ্রহণ করিবে না;

(খ) প্রয়োজন মনে করিলে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে সরকারের নিকট সুপারিশ পেশ করিতে পারিবে।

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন কমিশনের নিকট হইতে কোন সুপারিশ প্রাপ্ত হইলে উক্তরূপ সুপারিশপ্রাপ্ত হইবার ছয় মাসের মধ্যে সরকার ইহার গৃহীত কার্যক্রম সম্পর্কে লিখিতভাবে কমিশনকে অবহিত করিবে।

(৫) উপ-ধারা (৪) এর অধীন প্রতিবেদন প্রাপ্তির পর কমিশন উক্ত প্রতিবেদনের অনুলিপি অভিযোগকারী বা ক্ষেত্রমত, তাহার প্রতিনিধির নিকট সরবরাহ করিবে।

তদন্ত পরবর্তী কার্যক্রম          

১৯। (১) এই আইনের অধীন ভিন্নরূপ বিধান থাকা সত্ত্বেও, কোন তদন্ত সমাপ্তির পর অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হইলে, কমিশন-

(ক) সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা রুজু বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণের জন্য সরকারের নিকট সুপরিশ করিতে পারিবে এবং একই সঙ্গে ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কি ধরনের মামলা বা অন্যান্য আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যথাযথ হইবে তাহা সুপারিশের মধ্যে উল্লেখ করিবে;

(খ) সংবিধানের ১০২ অনুচ্ছেদের অধীন আদেশ বা নির্দেশযোগ্য হইলে, সুপ্রীম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির পক্ষে আবেদন দাখিল করিবার ব্যবস্থা করিতে পারিবে বা কমিশন স্বয়ং উক্ত বিভাগে আবেদন দাখিল করিতে পারিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন বিষয়ে কমিশন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্ত বা তাহার পরিবারকে উহার বিবেচনায় যথাযথ সাময়িক সাহায্য মঞ্জুর করিবার জন্য সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সুপারিশ করিতে পারিবে।

(৩) কমিশন তদন্ত রিপোর্টের একটি কপি সংক্ষুব্ধ ব্যক্তি বা তাহার প্রতিনিধিকে সরবরাহ করিবে।

(৪) উপ-ধারা (১) ও (২) এর অধীন সুপারিশসহ তদন্ত রিপোর্টের একটি কপি কমিশন সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট প্রেরণ করিবে এবং উক্ত সুপারিশের ভিত্তিতে গৃহীত বা প্রস্তাবিত ব্যবস্থা সম্পর্কে, রিপোর্ট প্রাপ্তির তিন মাসের মধ্যে, সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কমিশনকে অবহিত করিবে :

তবে শর্ত থাকে যে, যদি সরকার বা উক্ত কর্তৃপক্ষের কমিশনের সিদ্ধান্ত বা সুপারিশের সহিত মতপার্থক্য থাকে অথবা সরকার বা উক্ত কর্তৃপক্ষ কমিশনের সুপারিশ অনুসারে ব্যবস্থা গ্রহণে অসমর্থ হয় বা অস্বীকার করে,

তাহা হইলে উক্ত মতপার্থক্য, অসমর্থতা বা অস্বীকারের কারণ উল্লেখ করিয়া উপরি-উক্ত সময়সীমার মধ্যে কমিশনকে অবহিত করিবে।

(৫) কমিশন সংশ্লিষ্ট তদন্ত রিপোর্টের সারার্থ এবং উক্ত রিপোর্টের উপর কমিশনের সিদ্ধান্ত বা সুপারিশ তদকর্তৃক যথাযথ বিবেচিত পদ্ধতিতে প্রকাশ করিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, কমিশন যদি এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, গুরুত্ব বিবেচনায় কোন তদন্ত রিপোর্টের সম্পূর্ণ অথবা অংশবিশেষ জনগণের জ্ঞাতার্থে প্রকাশ করা প্রয়োজন, তাহা হইলে কমিশন উক্ত রিপোর্ট সম্পূর্ণ বা, ক্ষেত্রমত, উহার অংশবিশেষ প্রকাশ করিবে :

আরও শর্ত থাকে যে, যদি কমিশন এই মর্মে সন্তুষ্ট হয় যে, কোন রিপোর্টের সারার্থ প্রকাশ করিবার প্রয়োজন নাই, সেই ক্ষেত্রে উক্ত রিপোর্টের কোন কিছুই প্রকাশ করিবার প্রয়োজন হইবে না।

(৬) মানবাধিকার লংঘনের দায়ে আদালতে বিচারাধীন কোন মামলায় বা আইনগত কার্য ধারায় পৰ হইয়া প্রতিদ্বন্দ্বিতা করিবার অধিকার কমিশনের থাকিবে।

 

কমিশনের নিকট সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তির সুযোগ-সুবিধা

২০। (১) কমিশনের নিকট সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তি আদালতে সাক্ষ্য প্রদানকারী ব্যক্তির ন্যায় সকল সুযোগ-সুবিধার অধিকারী হইবেন।

(২) কমিশনের সম্মুখে সাক্ষ্য প্রদানকালে কোন ব্যক্তির প্রদত্ত বিবৃতি বা বক্তব্যের জন্য তাহার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী বা দেওয়ানী মামলা রুজু করা যাইবে না বা উক্ত বিবৃতি বা বক্তব্য তাহার বিরুদ্ধে কোন ফৌজদারী বা দেওয়ানী কার্যধারায় ব্যবহার করা যাইবে না, তবে উক্তরূপ বিবৃতি বা বক্তব্যের মধ্যে কোন মিথ্যা সাক্ষ্য থাকিলে তজ্জন্য তিনি অভিযোগ হইতে অব্যাহতি পাইবেন না।

সমন প্রেরণ          

২১। (১) এই আইনের অধীন প্রত্যেক সমন চেয়ারম্যান বা সদস্য বা কমিশন কর্তৃক তদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কমিশনের কোন কর্মকর্তার স্বাক্ষরে জারী করা হইবে।

(২) প্রত্যেক সমন উহাতে উল্লিখিত ব্যক্তির নিকট এবং যেক্ষেত্রে তাহা সম্ভব না হয় সেক্ষেত্রে জানামতে তাহার সর্বশেষ বাসস্থানের ঠিকানায় সরবরাহ করিয়া বা রেজিস্ট্রিকৃত ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া জারী করা হইবে।

(৩) যে ব্যক্তির নিকট সমন জারী করা হয় তিনি উহাতে উল্লিখিত সময় ও স্থানে কমিশনের সম্মুখে উপস্থিত থাকিবেন এবং কমিশন কর্তৃক তাহাকে জিজ্ঞাসিত সকল প্রশ্নের জবাব দিবেন এবং তাহার নিকট হইতে যাচিত এবং তাহার দখলে আছে এমন সকল দলিল সমনের মর্মার্থ অনুসারে উপস্থাপন করিবেন।

কমিশনের কার্যাবলীর বার্ষিক প্রতিবেদন     

২২। (১) প্রতি বৎসরের ৩০ মার্চ এর মধ্যে কমিশন উহার পূর্ববর্তী বৎসরের কার্যাবলী সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন রাষ্ট্রপতির নিকট পেশ করিবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন প্রতিবেদনের সহিত একটি স্মারকলিপি থাকিবে, যাহাতে, অন্যান্যের মধ্যে, কমিশনের পরামর্শ অনুসারে সরকার বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কর্তৃক কোন ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বা ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হইলে সেই ৰেত্রে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম বা ব্যবস্থা গ্রহণ না করিবার কারণ, কমিশন যতদূর অবগত ততদূর, লিপিবদ্ধ থাকিবে।

চতুর্থ অধ্যায়

কমিশনের কর্মকর্তা, ইত্যাদি

কমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারী

২৩। (১) কমিশনের একজন সচিব থাকিবে।

(২) এই আইনের অধীন কমিশন উহার কার্যাবলী সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের লক্ষ্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে।

(৩) সচিব এবং অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন, ভাতা ও চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি বিধি দ্বারা নির্ধারিত হইবে :

তবে শর্ত থাকে যে, বিধি প্রণয়ন না হওয়া পর্যন্ত সচিব ও অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বেতন, ভাতা ও চাকুরীর অন্যান্য শর্তাদি সরকার কর্তৃক নির্ধারিত হইবে।

(৪) সরকার, কমিশনের অনুরোধক্রমে, প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিযুক্ত কোন কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে কমিশনে প্রেষণে নিয়োগ করিতে পারিবে।

মানবাধিকার কমিশন তহবিল       

২৪। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে মানবাধিকার কমিশন তহবিল নামে একটি তহবিল গঠিত হইবে।

(২) মানবাধিকার কমিশন তহবিল, অতঃপর এই ধারায় তহবিল বলিয়া উল্লিখিত, এর পরিচালনা ও প্রশাসন, এই ধারা এবং বিধির বিধান সাপেক্ষে, কমিশনের উপর ন্যস্ত থাকিবে৷

(৩) তহবিল হইতে কমিশনের সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন, ভাতা ও চাকুরীর শর্তাবলী অনুসারে প্রদেয় অর্থ প্রদান করা হইবে এবং কমিশনের প্রয়োজনীয় অন্যান্য ব্যয় নির্বাহ করা হইবে৷

(৪) তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা :-

(ক)    সরকার কর্তৃক প্রদত্ত বাৎসরিক অনুদান;

(খ)    স্থানীয় কর্তৃপক্ষ কর্তৃক প্রদত্ত অনুদান৷

কমিশনের আর্থিক স্বাধীনতা    

২৫। (১) সরকার প্রতি অর্থ বৎসরের কমিশনের ব্যয়ের জন্য উহার অনুকূলে নির্দিষ্টকৃত অর্থ বরাদ্দ করিবে; এবং অনুমোদিত ও নির্ধারিত খাতে উক্ত বরাদ্দকৃত অর্থ হইতে ব্যয় করার ক্ষেত্রে সরকারের পূর্বানুমোদন গ্রহণ করা কমিশনের জন্য আবশ্যক হইবে না।

(২) এই ধারার বিধান দ্বারা সংবিধানের ১২৮ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত মহা-হিসাব নিরীক্ষকের অধিকার ক্ষুণ্ন করা হইয়াছে বলিয়া ব্যাখ্যা করা যাইবে না৷

 

হিসাব রক্ষণ ও নিরীক্ষা          

২৬। কমিশন যথাযথভাবে উহার হিসাব রক্ষণ করিবে এবং হিসাবের বার্ষিক বিবরণী প্রস্তুত করিবে৷

(২) বাংলাদেশের মহা-হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক, অতঃপর মহা-হিসাব নিরীক্ষক নামে অভিহিত, প্রতি বৎসর কমিশনের হিসাব নিরীক্ষা করিবেন এবং নিরীক্ষা রিপোর্টের একটি করিয়া অনুলিপি সরকার ও কমিশনের নিকট পেশ করিবেন৷

(৩) উপ-ধারা (২) মোতাবেক হিসাব নিরীক্ষার উদ্দেশ্যে মহা-হিসাব নিরীক্ষক কিংবা তাহার নিকট হইতে এতদুদ্দেশ্যে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি কমিশনের সকল রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ, নগদ বা ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ, জামানত, ভাণ্ডার এবং অন্যবিধ সম্পত্তি পরীক্ষা করিয়া দেখিতে পারিবেন এবং কমিশনের কোন সদস্য বা যে কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবেন৷

জনসেবক      

২৭। চেয়ারম্যান, সদস্য, সচিব, অন্যান্য কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং এই আইনের অধীন কার্য সম্পাদনের জন্য কমিশন হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রত্যেক কর্মকর্তা দন্ডবিধির section 21 এর public servant (জনসেবক) অভিব্যক্তিটি যে অর্থে ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে public servant (জনসেবক) বলিয়া গণ্য হইবেন৷

ক্ষমতা অর্পণ          

২৮। কমিশন উহার যেকোন ক্ষমতা,তৎকর্তৃক নির্ধারিত শর্তে, চেয়ারম্যান, সদস্য বা সচিবকে অর্পণ করিতে পারিবে৷

সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ          

২৯। এই আইন বা তদধীন প্রণীত বিধির অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে, তজ্জন্য সরকার, কমিশন, কোন সদস্য বা কমিশন বা সরকারের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বা সরকার বা কমিশনের কর্তৃত্বাধীন কোন প্রকাশনা, রিপোর্ট বা কার্যধারার বিরুদ্ধে দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যধারা দায়ের বা রুজু করা যাইবে না।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা      

৩০। এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে কমিশন, রাষ্ট্রপতির পূর্বানুমোদনক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

ইংরেজীতে অনূদিত পাঠ প্রকাশ      

৩১। (১) এই আইন প্রবর্তনের পর সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, এই আইনের ইংরেজীতে অনূদিত একটি নির্ভরযোগ্য পাঠ প্রকাশ করিবে।

(২) বাংলা ও ইংরেজী পাঠের মধ্যে বিরোধের ক্ষেত্রে বাংলা পাঠ প্রাধান্য পাইবে।

হেফাজত সংক্রান্ত বিধান    

৩২। (১) জাতীয় মানবাধিকার কমিশন অধ্যাদেশ, ২০০৭ (২০০৭ সনের ৪০ নং অধ্যাদেশ), অতঃপর উক্ত অধ্যাদেশ বলিয়া উলিস্নখিত, এর অধীন কৃত কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা, এই আইনের বিধানাবলী সাপেৰে, এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

(২) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের অনুচ্ছেদ ৯৩ এর দফা (২) এর বিধান অনুসারে উক্ত অধ্যাদেশের কার্যকরতা লোপ পাওয়া সত্ত্বেও অনুরূপ লোপ পাইবার পর উহার ধারাবাহিকতায় বা বিবেচিত ধারাবাহিকতায় কোন কাজকর্ম কৃত বা ব্যবস্থা গৃহীত হইয়া থাকিলে উহা এই আইনের বিধানাবলী সাপেক্ষে, এই আইনের অধীনেই কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়াও গণ্য হইবে।

 

Source : Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs

 

 

The Chittagong Hill Tracts Development Board Ordinance, 1976

 

THE CHITTAGONG HILL TRACTS DEVELOPMENT BOARD ORDINANCE, 1976

(ORDINANCE NO. LXXVII OF 1976).

An Ordinance to provide for the establishment of a Development Board for the Chittagong Hill Tracts.

WHEREAS it is expedient to provide for the establishment of a Development Board for the Chittagong Hill Tracts and for matters connected therewith or incidental thereto;

NOW, THEREFORE, in pursuance of the Proclamations of the 20th August, 1975, and 8th November, 1975 and in exercise of all powers enabling him in that behalf, the President is pleased to make and promulgate the following Ordinance:-

CONTENTS

SECTIONS

1. Short title

2. Definitions

3. Establishment of the Board

4. Composition of the Board

5. Head office, etc.

6. Meeting of the Board

7. Consultative Committee

8. Functions of the Board

9. Execution of projects and schemes through other agencies

10.       Appointment of officers, etc.

11. Board Fund

12. Budget

13. Audit and accounts

14. Submission of reports, etc.

15. Power of entry

16. Compulsory acquisition of land for the Board

17. Delegation of powers

18. Power to issue directions

19. Indemnity

20.       Winding up

21. Power to make rules

22. Power to make regulations

23.       Dissolution of the existing Chittagong Hill Tracts Development Board

An Ordinance to provide for the establishment of a Development Board for the Chittagong Hill Tracts.

WHEREAS it is expedient to provide for the establishment of a Development Board for the Chittagong Hill Tracts and for matters connected therewith or incidental thereto;

NOW, THEREFORE, in pursuance of the Proclamations of the 20th August, 1975, and 8th November, 1975 and in exercise of all powers enabling him in that behalf, the President is pleased to make and promulgate the following Ordinance:-

      Short title      

1. This Ordinance may be called the Chittagong Hill Tracts Development Board Ordinance, 1976.

             Definitions     

2. In this Ordinance, unless there is anything repugnant in the subject or context,-

(a)        “Board” means the Chittagong Hill Tracts Development Board established under section 3;

(b)        “Chairman” means the Chairman of the Board;

(c) “member” means a member of the Board;

(d) “prescribed” means prescribed by rules made under this Ordinance;

(e) “Vice-Chairman” means the Vice-Chairman of the Board.

    Establishment of the Board    

3. (1) As soon as may be after the commencement of this Ordinance, the Government shall, by notification in the official Gazette, establish a Board to be called the Chittagong Hill Tracts Development Board for carrying out the purposes of this Ordinance.

(2) The Board shall be a body corporate, having perpetual succession and a common seal, with power, subject to the provisions of this Ordinance and the rules made thereunder, to acquire, hold and dispose of property, both movable and immovable, and shall by the said name sue and be sued.

             Composition of the Board       

4. 1[ (1) The Board shall consist of the following members, namely:-

(a)        a Chairman and a Vice-Chairman to be appointed by the Government;

(b) the Deputy Commissioners of the districts of Chittagong Hill Tracts 2[ , Bandarban and Khagrachari], ex-officio;

(c) 3[ four] full-time members to be appointed by the Government.]

(2) One of the full-time members, to be specified by the Government, shall act as the Secretary of the Board.

(3) Full-time members shall hold office on such terms and conditions as the Government may determine.

(4) The Chairman shall be the Chief executive of the Board.

(5) The Chairman and other members shall perform such functions as the Board may assign to them from time to time or as may be prescribed.

(6) No act or proceedings of the Board shall be invalid merely on the ground of the existence of a vacancy in, or any defect in the constitution of, the Board.

             Head office, etc       

5. (1) The head office of the Board shall be located at Rangamati.

(2) The Board may, with the prior approval of the Government, establish offices at any other place in the Chittagong Hill Tracts.

       Meeting of the Board  

6. (1) Save as hereinafter provided, the Board shall regulate the procedure for its meetings.

(2) Meetings of the Board shall be held on such date and at such time and place as may be determined by the Chairman:

Provided that at least one meeting of the Board shall be held in every two months.

(3) To constitute a quorum at a meeting of the Board, not less than three members shall be present.

(4) All questions at a meeting of the Board shall be decided by a majority of the members present and voting, and in the case of equality of votes, the person presiding shall have a second or casting vote.

(5) All meetings of the Board shall be presided over by the Chairman or, in his absence, by the Vice-Chairman.

          Consultative Committee       

7. (1) There shall be a Consultative Committee consisting of the following members, namely:-

(a)        the Chairman of the Board who shall also be its Chairman;

(b) the three Rajas or their nominees;

(c) one representative of the Headmen from each subdivision in the 4[ districts of Chittagong Hill Tracts 5[ , Bandarban and Khagrachari]], to be nominated by the Chairman;

(d) one Chairman of the Union Parishad from each subdivision 6[ of the districts of Chittagong Hill Tracts 7[ , Bandarban and Khagrachari]], to be nominated by the Chairman of the Board;

(e) such other members, official or non-official, as may be nominated by the Chairman with the approval of the Government.

(2) The nominated members of the Consultative Committee shall hold office for such period, and the members thereof shall be paid such travel costs for attending meetings, as may be determined by the Board.

(3) The Board shall regulate the procedure for the meetings of the Consultative Committee.

(4) The Consultative Committee shall advise the Board in the formulation and execution of its projects and schemes.

     Functions of the Board           

8. The functions of the Board shall be-

(a)        to prepare projects and schemes for the development of Chittagong Hill Tracts;

8[ (b) to approve of projects and schemes involving not more than twenty-five lakh Taka each for thethanaheadquarters, unions and villages;]

(c) to execute approved projects and schemes;

(d) to supervise execution of approved projects and schemes;

(e) to advance funds, on such terms and conditions as it may determine, for the execution of development schemes sponsored by various development agencies;

9[ * * *]

(g) to do such other acts and things as may be necessary or convenient to be done in connection with, or incidental or conducive to, the performance of the aforesaid functions.

Execution of projects and schemes through other agencies

9. Notwithstanding anything contained in any other law for the time being in force or in section 8, the Board may require any local authority or Government agency within whose jurisdiction any area covered by any project or scheme approved under section 8 lies to execute the project or scheme, or any portion thereof, in consultation with the Board, and the expenditure incurred on the execution of any such project or scheme or portion thereof shall be borne as may be agreed to between the Board and the local authority or Government agency or, in the event of disagreement, as may be determined by the Government.

             Appointment of officers, etc            

10. The Board may appoint such officers and other employees as it considers necessary for the performance of its functions on such terms and conditions as it may deem fit:

Provided that no post shall be created by the Board without the prior approval of the Government.

        Board Fund    

11. (1) There shall be formed a Fund to be known as the Chittagong Hill Tracts Development Board Fund which shall vest in the Board and shall be utilised by the Board to meet charges in connection with its functions under this Ordinance, including the payment of salaries and other remuneration to the officers and other employees of the Board.

(2) The Chittagong Hill Tracts Development Board Fund shall comprise-

(a)        a non-lapsable revolving fund, not exceeding Taka two crore, to be granted by the Government;

(b)        loans raised by the Board with the sanction of the Government;

(c) receipts from any other source.

             Budget          

12. The Board shall, by such date in each year as may be prescribed, submit to the Government for approval a budget in the prescribed form for each financial year showing the estimated receipts and expenditure and the sums which are likely to be required from the Government during that financial year.

             Audit and accounts         

13. (1) The Board shall maintain its accounts in such manner and form as may be prescribed.

(2) The accounts of the Board shall be audited by the Comptroller and Auditor-General ofBangladesh(hereinafter in this section referred to as the Auditor-General) in such manner as he deems fit.

(3) For the purpose of an audit under sub-section (2), the Auditor-General or any person authorised by him in this behalf shall have access to all records, books, documents, cash, securities, stores and other property of the Board and may examine the Chairman or any member, officer or employee of the Board.

(4) The Auditor-General shall, as soon as possible after completion of the audit, send to the Board his audit report and the Board shall forward it, with its comments thereon, to the Government.

(5) The Board shall take steps forthwith to remedy any defects or irregularities pointed out in the audit report.

             Submission of reports, etc     

14. (1) The Board shall submit to the Government, as soon as possible after the end of every financial year, a report on the conduct of its affairs for that year.

(2) The Board shall submit to the Government at such time and at such interval as the Government may specify-

(a)        such returns, accounts, statements, estimates and statistics as may be required by the Government;

(b) information and comments asked for by the Government on any specific subject;

(c) copies of documents required by the Government for examination or any other purpose.

             Power of entry    

15. The Chairman or any member, or any other person authorised by the Chairman in this behalf, may, with or without assistants or workmen, enter into or upon any land in order

(a)        to make any inspection, survey, experiment, valuation or inquiry;

(b) to take level of such land;

(c) to dig or bore into the sub-soil;

(d) to set out boundaries and intended lines of work;     (e) to mark such levels, boundaries and lines by placing marks and cutting trenches; or

(f) to do any other thing;

whenever it is necessary to do so for any of the purposes of this Ordinance:

Provided that no such entry shall be made without giving the occupier of the land at least twenty-four hours’ notice of the intention to make such entry.

             Compulsory acquisition of land for the Board      

16. Any land required by the Board for carrying out its functions under this Ordinance shall be deemed to be needed for a public purpose and such land may be requisitioned or acquired for the Board by the Government or the Deputy Commissioner, as the case may be, in accordance with any law for the time being in force.

     Delegation of powers      

17. The Board may, by general or special order, delegate to the Chairman or any member or officer any of its functions subject to such conditions as it may think fit to impose.

        Power to issue directions      

18. The Government may, from time to time, issue directions to the Board to take such measures as it considers necessary for carrying out the purposes of this Ordinance; and the Board shall comply with all such directions.

          Indemnity     

19. No suit, prosecution or other legal proceeding shall lie against the Board, the Chairman or any member, officer or employee of the Board for anything done or intended to be done in good faith under this Ordinance.

   Winding up          

20. No provision of law relating to the winding up of bodies corporate shall apply to the Board, and the Board shall not be wound up except by order of the Government and in such manner as the Government may direct.

        Power to make rules 

21. The Government may, by notification in the official Gazette, make rules for carrying out the purposes of this Ordinance.

       Power to make regulations     

22. The Board may, with the approval of the Government, make regulations, not inconsistent with the provisions of this Ordinance and the rules made thereunder, to provide for all matters not required to be provided for by rules and for which provision is necessary or expedient for carrying out the purposes of this Ordinance.

 Dissolution of the existing Chittagong Hill Tracts Development Board    

23. (1) Upon the establishment of the Board, the Chittagong Hill Tracts Development Board constituted by the Cabinet Division notification No. 21/2/76-Rules, dated the 14th January, 1976, hereinafter referred to as the existing Board, shall stand dissolved and the said notification shall stand rescinded.

(2) Upon the dissolution of the existing Board,-

(a)        all assets, rights, powers, authorities and privileges, and all property, movable or immovable, cash and bank balances, funds, investments and all other interests and rights in, or arising out of, such property of the existing Board subsisting immediately before its dissolution shall stand transferred to and vest in the Board;

(b) all debts, obligations and liabilities incurred, all contracts entered into and all matters and things engaged to be done by, with or for the existing Board before its dissolution shall be deemed to have been incurred, entered into or engaged to be done by, with or for the Board;

(c) all budget estimates, schemes or projects made by the existing Board shall be deemed to have been made by the Board under the provisions of this Ordinance and shall continue in force until they are altered, amended or superseded under the said provisions;

(d) all officers and other employees of the existing Board shall stand transferred to and become officers and employees of the Board and shall hold office or service in the Board on the same terms and conditions as were enjoyed by them immediately before such dissolution and shall continue to do so until the terms and conditions are duly altered under this Ordinance;

(e) all suits, prosecutions and other legal proceedings instituted by or against the existing Board before its dissolution shall be deemed to be suits, prosecutions and proceedings by or against the Board and shall be proceeded or otherwise dealt with accordingly.

1 Sub-section (1) was substituted by section 3 of the Development Boards Laws Amendment Ordinance, 1982 (Ordinance No. XLV of 1982)

2 The comma and words “, Bandarban and Khagrachari” were substituted for the words “and Bandarban” by section 2 of the Chittagong Hill Tracts Development Board (Amendment) Ordinance, 1984 (Ordinance No. IX of 1984)

3 The word “four” was substituted for the word “three” by section 2 of the Chittagong Hill Tracts Development Board (Amendment) Ordinance, 1983 (Ordinance No. XLIV of 1983)

4 The words “districts of Chittagong Hill Tracts and Bandarban” were substituted for the words “Chittagong Hill Tracts ” by section 3 of the Development Boards Laws Amendment Ordinance, 1982 (Ordinance No. XLV of 1982)

5 The comma and words “, Bandarban and Khagrachari” were substituted for the words “and Bandarban” by section 3 of the Chittagong Hill Tracts Development Board (Amendment) Ordinance, 1984 (Ordinance No. IX of 1984)

6 The words “of the districts of Chittagong Hill Tracts and Bandarban” were inserted by section 3 of the Development Boards Laws Amendment Ordinance, 1982 (Ordinance No. XLV of 1982)

7 The comma and words “, Bandarban and Khagrachari” were substituted for the words “and Bandarban” by section 3 of the Chittagong Hill Tracts Development Board (Amendment) Ordinance, 1984 (Ordinance No. IX of 1984)

8 Clause (b) was substituted by section 3 of the Development Boards Laws Amendment Ordinance, 1982 (Ordinance No. XLV of 1982)

9 Clause (f) was omitted by section 3 of the Development Boards Laws Amendment Ordinance, 1982 (Ordinance No. XLV of 1982)

Source : Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs

The Districts (Extension to The Chittagong Hill Tracts) Ordinance, 1984

 

 

THE DISTRICTS (EXTENSION TO THE CHITTAGONG HILL-TRACTS) ORDINANCE, 1984

(ORDINANCE NO. LXXI OF 1984).

[5th December, 1984]

 

An Ordinance to extend the Districts Act, 1836, to the Chittagong Hill-tracts.

WHEREAS it is expedient to extend the Districts Act, 1836 (XXI of 1836), to the Chittagong Hill-tracts;

NOW, THEREFORE, in pursuance of the Proclamation of the 24th March, 1982, and in exercise of all powers, enabling him in that behalf, the President is pleased to make and promulgate the following Ordinance:-

 

CONTENTS

SECTIONS

1.Short title and commencement

2.Definition

3.Application of Act XXI of 1836 to the Chittagong Hill-tracts

4.Validation

An Ordinance to extend the Districts Act, 1836, to the Chittagong Hill-tracts

WHEREAS it is expedient to extend the Districts Act, 1836 (XXI of 1836), to the Chittagong Hill-tracts;

NOW, THEREFORE, in pursuance of the Proclamation of the 24th March, 1982, and in exercise of all powers, enabling him in that behalf, the President is pleased to make and promulgate the following Ordinance:-

Short title and commencement

1. (1) This Ordinance may be called the Districts (Extension to the Chittagong Hill-tracts) Ordinance, 1984

(2) It shall be deemed to have come into force on the 18th April, 1981.

Definition

2. In this Ordinance, the expression “Chittagong Hill-tracts” means the area known by that name as existing on the first day of January, 1936.

Application of Act XXI of 1836 to the Chittagong Hill-tracts

3. The Districts Act, 1836 (XXI of 1836), shall apply to the Chittagong Hill-tracts.

 

Validation

4. The new districts of Bandarban and Khagrachari created in the Chittagong Hill-tracts under the Code of Criminal Procedure, 1898 (Act V of 1898), before the commencement of this Ordinance shall be deemed to have been created under the Districts Act, 1836 (XXI of 1836).

  

Source : Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs

 

 

ভূমি আপীল বোর্ড আইন, ১৯৮৯

ভূমি আপীল বোর্ড আইন, ১৯৮৯

 

 ( ১৯৮৯ সনের ২৪ নং আইন )[৩১ মে, ১৯৮৯]

ভূমি আপীল বোর্ড গঠনের জন্য বিধান করার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷

যেহেতু ভূমি আপীল বোর্ড গঠনের জন্য বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

সূচী

ধারাসমূহ

১। সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন

২। সংজ্ঞা

৩। আইনের প্রাধান্য

৪। ভূমি আপীল বোর্ড গঠন

৫। বোর্ডের এখতিয়ার

৬। পুনর্বিবেচনা

৭। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৮। রহিতকরণ ও হেফাজত

ভূমি আপীল বোর্ড গঠনের জন্য বিধান করার উদ্দেশ্যে প্রণীত আইন৷

 

 

যেহেতু ভূমি আপীল বোর্ড গঠনের জন্য বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল :-

সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন

১৷ (১) এই আইন ভূমি আপীল বোর্ড আইন, ১৯৮৯ নামে অভিহিত হইবে৷

(২) ইহা ২রা চৈত্র, ১৩৯৫ মোতাবেক ১৬ই মার্চ, ১৯৮৯ তারিখে বলবত্ হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷

সংজ্ঞা

২৷ এই আইনে “বোর্ড” বলিতে ভূমি আপীল বোর্ডকে বুঝাইবে৷

আইনের প্রাধান্য

৩৷ আপাততঃ বলবত্ অন্য কোন আইনে বিপরীত যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই আইন ও তদধীন প্রণীত বিধির বিধানাবলী কার্যকর থাকিবে৷

ভূমি আপীল বোর্ড গঠন

৪৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর সরকার, যথাশীঘ্র সম্ভব, ভূমি আপীল বোর্ড নামে একটি বোর্ড গঠন করিবে৷

(২) একজন চেয়ারম্যান এবং অনধিক দুইজন সদস্য সমন্বয়ে বোর্ড গঠিত হইবে৷

(৩) বোর্ডের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ সরকার কর্তৃক নিযুক্ত হইবেন এবং তাঁহাদের চাকুরীর শর্তাবলী সরকার কর্তৃক স্থিরীকৃত হইবে৷

বোর্ডের এখতিয়ার

৫৷ বোর্ড উহার উপর সরকার কর্তৃক অথবা কোন আইনের দ্বারা কিংবা আইনের অধীন অর্পিত ক্ষমতা প্রয়োগ ও দায়িত্ব পালন করিবে৷

পুনর্বিবেচনা

১[ ৬৷ (১) বোর্ডের কোন আদেশের দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি আদেশটি ষাট দিনের মধ্যে উহা পুনর্বিবেচনার জন্য বোর্ডের নিকট বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে আবেদন করিতে পারিবেন৷

(২) বোর্ডের বিবেচনায় সংগত কোন মনে হইলে আবেদনকারীর প্রার্থনার পরিপ্রেক্ষিতে বোর্ড উহার সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন উপ-ধারা (১) এর অধীন পেশকৃত আবেদনটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখিতে পারিবে৷]

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৭৷ এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে৷

রহিতকরণ ও হেফাজত

৮৷ (১) Board of Land Administration Act, 1980 (XIII of 1981) এতদ্‌দ্বারা রহিত করা হইল৷

(২) উপ-ধারা (১) এ উল্লিখিত রহিতকরণের তারিখে রহিত Act এর অধীন গঠিত ভূমি প্রশাসন বোর্ডের নিকট কোন বিষয় অনিষ্পন্ন থাকিলে উহা, অন্য কোন আইনে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, সরকারের নিকট হস্তান্তরিত হইবে এবং সরকার হয় নিজেই উহা নিষ্পত্তি করিবে নতুবা নিষ্পত্তির জন্য উহা ভূমি সংস্কার বোর্ড বা ভূমি আপীল বোর্ডের নিকট প্রেরণ করিবে এবং যে বোর্ডের নিকট বিষয়টি প্রেরিত হইবে সেই বোর্ডই উহা নিষ্পত্তি করিবে৷

(৩) ভূমি আপীল বোর্ড অধ্যাদেশ, ১৯৮৯ (অধ্যাদেশ নং ২, ১৯৮৯) এতদ্‌দ্বারা রহিত করা হইল৷

(৪) উপ-ধারা (৩) এর অধীন রহিতকরণ সত্ত্বেও, রহিত অধ্যাদেশের অধীন কৃত কাজকর্ম বা গৃহীত ব্যবস্থা এই আইনের অধীন কৃত বা গৃহীত হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে৷

 

১ ধারা ৬ ভূমি আপীল বোর্ড (সংশোধন) আইন, ১৯৯০ (১৯৯০ সনের ৩০ নং আইন) এর ২ ধারা কর্তৃক প্রতিস্থাপিত

 

Source : Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs

 

 

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮


পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন১৯৯৮

১৯৯৮ সনের ১২ নং আইন )[২৪ মে, ১৯৯৮]

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷

যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রাম অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল, এবং অনগ্রসর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা বিধেয়; এবং

যেহেতু এই অঞ্চল উপ-জাতীয় অধিবাসীগণসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন; এবং

যেহেতু উপরিউক্ত লক্ষ্য সহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রাখিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বিগত ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪০৪ বাংলা মোতাবেক ২রা ডিসেম্বর, ১৯৯৭ ইংরেজী তারিখে একটি চুক্তি সম্পাদন করিয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে তিনটি পার্বত্য জেলার জেলা পরিষদসমূহের কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন এবং আনুষংগিক অন্যান্য কার্যাদি সম্পাদনের নিমিত্ত একটি আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপনের বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

সূচী

ধারাসমূহ

১৷         সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন

২৷         সংজ্ঞা

৩৷         পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপন

৪৷         পরিষদের কার্যালয়, ইত্যাদি

৫৷         পরিষদের গঠন

৬৷        চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যের নির্বাচন

৭৷         চেয়ারম্যানের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা

৮৷        উপ-জাতীয় ও অ-উপজাতীয় সদস্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা

৯৷         চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের শপথ

১০৷ সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা

১১৷ চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের সুযোগ-সুবিধা

১২। পরিষদের মেয়াদ

১৩। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের পদত্যাগ

১৪। চেয়ারম্যান, ইত্যাদির অপসারণ

১৫। চেয়ারম্যান ও সদস্য পদ শূন্য হওয়া

১৬। অস্থায়ী চেয়ারম্যান

১৭। উপনির্বাচন

১৮। পরিষদের নির্বাচনের সময়

১৯। দুই পদের জন্য একই সংগে প্রার্থী হওয়া যাইবে না

২০। নির্বাচন পরিচালনা

২১। চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ

২২। পরিষদের কার্যাবলী

২৩। নির্বাহী ক্ষমতা

২৪। কার্যাবলী নিষ্পন্ন

২৫। কমিটি

২৬। চুক্তি

২৭। নথি-পত্র প্রতিবেদন ইত্যাদি

২৮। পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা

২৯। পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ

৩০। ভবিষ্য তহবিল, ইত্যাদি

৩১। চাকুরী প্রবিধান

৩২। পরিষদের তহবিল, ইত্যাদি

৩৩। পরিষদের তহবিল সংরক্ষণ, বিনিয়োগ, ইত্যাদি

৩৪। পরিষদের তহবিলের প্রয়োগ

৩৫। বাজেট

৩৬। হিসাব

৩৭। হিসাব নিরীক্ষা

৩৮। পরিষদের সম্পত্তি

৩৯। পরিষদের নিকট চেয়ারম্যান, ইত্যাদির দায়

৪০। পরিষদের কার্যাবলীর উপর নিয়ন্ত্রণ

৪১। পরিষদ বাতিলকরণ

৪২। পরিষদ ও অন্য কোন স্থানীয় কতর্ৃপক্ষের বিরোধ

৪৩। আপীল

৪৪। পরিষদ ও সরকারের কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন

৪৫। বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৪৬। প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

৪৭। পরিষদের পক্ষে বা বিপক্ষে মামলা

৪৮। নোটিশ এবং উহার জারীকরণ

৪৯। প্রকাশ্য রেকর্ড

৫০। পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, ইত্যাদি জনসেবক (public servant) গণ্য হইবেন

৫১। সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ

৫২। অসুবিধা দূরীকরণ

৫৩। আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পরিষদের সহিত আলোচনা, ইত্যাদি

৫৪। ক্রান্তিকালীন বিধান

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপনকল্পে প্রণীত আইন৷

যেহেতু পার্বত্য চট্টগ্রাম অনগ্রসর উপজাতি অধ্যুষিত অঞ্চল, এবং অনগ্রসর অঞ্চলের উন্নয়নের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণ করা বিধেয়; এবং

যেহেতু এই অঞ্চল উপ-জাতীয় অধিবাসীগণসহ পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের সকল নাগরিকের রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক অধিকার সমুন্নত এবং আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করা প্রয়োজন; এবং

যেহেতু উপরিউক্ত লক্ষ্য সহ বাংলাদেশের সকল নাগরিকের সার্বিক উন্নয়নের লক্ষ্যে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধানের আওতায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব ও অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ ও অবিচল আনুগত্য রাখিয়া পার্বত্য চট্টগ্রাম সংক্রান্ত জাতীয় কমিটি এবং পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি বিগত ১৮ই অগ্রহায়ণ, ১৪০৪ বাংলা মোতাবেক ২রা ডিসেম্বর, ১৯৯৭ ইংরেজী তারিখে একটি চুক্তি সম্পাদন করিয়াছে; এবং

যেহেতু উক্ত চুক্তি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে তিনটি পার্বত্য জেলার জেলা পরিষদসমূহের কার্যক্রমের সমন্বয় সাধন এবং আনুষংগিক অন্যান্য কার্যাদি সম্পাদনের নিমিত্ত একটি আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপনের বিধান করা সমীচীন ও প্রয়োজনীয়;

সেহেতু এতদ্‌দ্বারা নিম্নরূপ আইন করা হইল:-

সংক্ষিপ্ত শিরোনামা ও প্রবর্তন

১৷ (১) এই আইন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ আইন, ১৯৯৮ নামে অভিহিত হইবে৷

(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, যে তারিখ নির্ধারণ করিবে সেই তারিখে এই আইন বলবত্ হইবে৷

সংজ্ঞা

২৷ বিষয় বা প্রসংগের পরিপন্থী কোন কিছু না থাকিলে, এই আইনে,-

(ক) “অ-উপজাতীয়” অর্থ যিনি উপ-জাতীয় নহেন;

(খ) “অ-উপজাতীয় স্থায়ী বাসিন্দা” অর্থ যিনি উপ-জাতীয় নহেন এবং যাহার পার্বত্য জেলায় বৈধ জায়গা-জমি আছে এবং উক্ত জেলার কোন সুনির্দিষ্ট ঠিকানায় তিনি সাধারণতঃ বসবাস করেন;

(গ) “উপ-জাতীয়” অর্থ পার্বত্য জেলাসমূহে স্থায়ীভাবে বসবাসরত চাকমা, মারমা, তনৈচংগা, ত্রিপুরা, লুসাই, পাংখো, খিয়াং, ম্রো, বোম, খুমী ও চাক উপ-জাতীয় কোন সদস্য;

(ঘ) “চেয়ারম্যান” অর্থ পরিষদের চেয়ারম্যান;

(ঙ) “পরিষদ” অর্থ এই আইনের অধীনে স্থাপিত পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ;

(চ) “পার্বত্য জেলা” অর্থ রাংগামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান পার্বত্য জেলা;

(ছ) “পার্বত্য জেলা পরিষদ” অর্থ রাংগামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ, খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলা পরিষদ;

(জ) “প্রবিধান” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত প্রবিধান;

(ঝ) “বিধি” অর্থ এই আইনের অধীন প্রণীত বিধি;

(ঞ) “সদস্য” অর্থ পরিষদের সদস্য;

(ট) “স্থানীয় কর্তৃপক্ষ” অর্থ কোন আইনের দ্বারা বা অধীনে গঠিত পার্বত্য জেলার কোন সংবিধিবদ্ধ সংস্থা৷

পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ স্থাপন

৩৷ (১) এই আইন বলবত্ হইবার পর, যতশীঘ্র সম্ভব, এই আইনের বিধান অনুযায়ী পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ নামে একটি পরিষদ স্থাপিত হইবে৷

(২) পরিষদ একটি সংবিধিবদ্ধ সংস্থা হইবে এবং ইহার স্থায়ী ধারাবাহিকতা ও একটি সাধারণ সীলমোহর থাকিবে এবং এই আইন ও বিধি সাপেক্ষে ইহার স্থাবর ও অস্থাবর উভয় প্রকার সম্পত্তি অর্জন করার, অধিকারে রাখার ও হস্তান্তর করার ক্ষমতা থাকিবে এবং ইহার নামে ইহা মামলা দায়ের করিতে পারিবে বা ইহার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা যাইবে৷

পরিষদের কার্যালয়, ইত্যাদি

৪৷ (১) পরিষদের প্রধান কার্যালয় পার্বত্য জেলাসমূহের মধ্যে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত স্থানে থাকিবে৷

(২) পরিষদ, সরকারের অনুমোদনক্রমে, পার্বত্য জেলাসমূহে শাখা কার্যালয় স্থাপন করিতে পারিবে৷

পরিষদের গঠন

৫৷ (১) এই ধারার অন্যান্য বিধান সাপেক্ষে পরিষদ নিম্নরূপ সদস্য সমন্বয়ে গঠিত হইবে, যথা:-

(ক) চেয়ারম্যান;

(খ) বার জন উপ-জাতীয় সদস্য;

(গ) ছয় জন অ-উপজাতীয় সদস্য;

(ঘ) দুইজন উপ-জাতীয় মহিলা সদস্য;

(ঙ) একজন অ-উপজাতীয় মহিলা সদস্য;

(চ) তিনটি পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, পদাধিকারবলে৷

(২) চেয়ারম্যান উপ-জাতীয়গণের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবেন৷

(৩) উপ-ধারা (১)(খ) তে উল্লিখিত উপ-জাতীয় সদস্যগণের মধ্যে-

(ক) পাঁচজন নির্বাচিত হইবেন চাকমা উপজাতি হইতে;

(খ) তিনজন নির্বাচিত হইবেন মারমা উপজাতি হইতে;

(গ) দুইজন নির্বাচিত হইবেন ত্রিপুরা উপজাতি হইতে;

(ঘ) একজন নির্বাচিত হইবেন ম্রো ও তনৈচংগা উপজাতি হইতে;

(ঙ) একজন নির্বাচিত হইবেন লুসাই, বোম, পাংখো, খুমী, চাক ও খিয়াং উপজাতি হইতে৷

(৪) উপ-ধারা ১(গ) তে উল্লিখিত অ-উপজাতীয় সদস্যগণ প্রতিটি পার্বত্য জেলা হইতে দুইজন করিয়া নির্বাচিত হইবেন৷

(৫) উপ-ধারা ১(ঘ) তে উল্লিখিত দুইজন উপ-জাতীয় মহিলা সদস্যগণের একজন নির্বাচিত হইবেন চাকমা উপজাতির মহিলাগণের মধ্য হইতে এবং অপর একজন নির্বাচিত হইবেন অন্যান্য উপজাতির মহিলাগণের মধ্য হইতে৷

(৬) উপ-ধারা ১(ঙ) তে উল্লিখিত একজন অ-উপজাতীয় মহিলা সদস্য পার্বত্য জেলা তিনটির অ-উপজাতীয় মহিলাগণের মধ্য হইতে নির্বাচিত হইবেন৷

(৭) উপ-ধারা ১(চ) তে উল্লিখিত পরিষদের সদস্যগণের ভোটাধিকার থাকিবে৷

(৮) কোন ব্যক্তি অ-উপজাতীয় কিনা এবং হইলে তিনি কোন সম্প্রদায়ের সদস্য তাহা সংশ্লিষ্ট মৌজার হেডম্যান বা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা ক্ষেত্রমত পৌরসভার চেয়ারম্যান কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে প্রদত্ত সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে সার্কেল চীফ স্থির করিবেন এবং এতদ্‌সম্পর্কে সার্কেল চীফের নিকট হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি কোন অ-উপজাতীয় সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন না৷

(৯) কোন ব্যক্তি উপ-জাতীয় কিনা এবং হইলে তিনি কোন উপজাতির সদস্য তাহা সার্কেল চীফ স্থির করিবেন এবং এতদ্‌সম্পর্কে সার্কেল চীফের নিকট হইতে প্রাপ্ত সার্টিফিকেট ব্যতীত কোন ব্যক্তি উপ-জাতীয় হিসাবে চেয়ারম্যান বা কোন উপ-জাতীয় সদস্য পদের জন্য প্রার্থী হইতে পারিবেন না৷

চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্যের নির্বাচন

৬৷ ধারা ৫(১)(চ) তে উল্লিখিত সদস্যগণ ব্যতীত পরিষদের চেয়ারম্যানসহ অন্য সকল সদস্য পার্বত্য জেলা পরিষদসমূহের চেয়ারম্যান এবং অন্যান্য সদস্যগণ কর্তৃক বিধি অনুসারে নির্বাচিত হইবেন৷

চেয়ারম্যানের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা

৭৷ (১) কোন ব্যক্তি উপ-জাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন৷

(২) কোন ব্যক্তি উপ-জাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার বা থাকিবার যোগ্য না হইলে তিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হইবার বা থাকিবার যোগ্য হইবেন না৷

উপ-জাতীয় ও অ-উপজাতীয় সদস্যগণের যোগ্যতা ও অযোগ্যতা

৮৷ (১) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে, কোন পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইলে, কোন উপ-জাতীয় অন্তর্ভুক্ত হইলে এবং তাহার বয়স পঁচিশ বত্সর পূর্ণ হইলে, উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, তিনি তাহার উপজাতির জন্য নির্ধারিত আসনে উপজাতি সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন৷

(২) কোন ব্যক্তি বাংলাদেশের নাগরিক হইলে, তিনি পার্বত্য জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হইলে, অ-উপজাতীয় হইলে এবং তাহার বয়স পঁচিশ বত্সর পূর্ণ হইলে, উপ-ধারা (৩) এ বর্ণিত বিধান সাপেক্ষে, তিনি অ-উপজাতীয়দের জন্য নির্ধারিত আসনে অ-উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন৷

(৩) কোন ব্যক্তি উপ-জাতীয় বা অ-উপজাতীয় সদস্য নির্বাচিত হইবার এবং থাকিবার যোগ্য হইবেন না, যদি-

(ক) তিনি বাংলাদেশের নাগরিকত্ব পরিত্যাগ করেন বা হারান;

(খ) তাহাকে কোন আদালত অপ্রকৃতিস্থ বলিয়া ঘোষণা করেন;

(গ) তিনি দেউলিয়া ঘোষিত হইবার পর দায় হইতে অব্যাহতি লাভ না করিয়া থাকেন;

(ঘ) তিনি অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাসের জন্য পার্বত্য জেলা ত্যাগ করেন;

(ঙ) তিনি নৈতিক স্খলনজনিত কোন ফৌজদারী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হইয়া অন্যুন দুই বত্সরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন এবং তাহার মুক্তি লাভের পর পাঁচ বত্সরকাল অতিবাহিত না হইয়া থাকে;

(চ) তিনি প্রজাতন্ত্রের বা পরিষদের বা অন্য কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কোন লাভজনক সার্বক্ষণিক পদে অধিষ্ঠিত থাকেন;

(ছ) তিনি জাতীয় সংসদের সদস্য বা পার্বত্য জেলার কোন স্থানীয় কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান বা সদস্য হন বা থাকেন;

(জ) তাহার নিকট সোনালী ব্যাংক, অগ্রণী ব্যাংক, জনতা ব্যাংক, রূপালী ব্যাংক, শিল্প ব্যাংক, শিল্প ঋণ সংস্থা বা কৃষি ব্যাংক বা অন্য কোন তফসিলি ব্যাংক বা কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান হইতে গৃহীত কোন ঋণ মেয়াদোত্তীর্ণ অবস্থায় অনাদায়ী থাকে৷

ব্যাখ্যা৷- দফা (জ) এ উল্লিখিত “আর্থিক প্রতিষ্ঠান” অর্থ আর্থিক প্রতিষ্ঠান আইন, ১৯৯৩ (১৯৯৩ সনের ২৭ নং আইন) এ সংজ্ঞায়িত কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠান৷

চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের শপথ

৯৷ চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য পদে নির্বাচিত ব্যক্তি তাহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে নিম্নলিখিত ফরমে রাষ্ট্রপতি কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে মনোনীত হাইকোর্ট বিভাগের কোন বিচারপতির সম্মুখে শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিবেন এবং শপথপত্র বা ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষরদান করিবেন, যথা:-

“আমি …………………………. পিতা/স্বামী …………………………… পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান/সদস্য নির্বাচিত হইয়া সশ্রদ্ধচিত্তে শপথ বা দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করিতেছি যে, আমি আইন অনুযায়ী ও বিশ্বস্ততার সহিত আমার পদের কর্তব্য পালন করিব এবং আমি বাংলাদেশের প্রতি অকৃত্রিম বিশ্বাস ও আনুগত্য পোষণ করিব৷”

সম্পত্তি সম্পর্কিত ঘোষণা

১০৷ চেয়ারম্যান ও প্রত্যেক সদস্য তাহার কার্যভার গ্রহণের পূর্বে তাহার এবং তাঁহার পরিবারের কোন সদস্যের স্বত্ব, দখল বা স্বার্থ আছে এই প্রকার যাবতীয় স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তির একটি লিখিত বিবরণ নির্বাচন বিধি অনুসারে দাখিল করিবেন৷

ব্যাখ্যা৷- “পরিবারের সদস্য” বলিতে চেয়ারম্যান বা সংশ্লিষ্ট সদস্যের স্বামী বা স্ত্রী এবং তাঁহার সংগে বসবাসকারী এবং তাঁহার উপর সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল তাঁহার ছেলে-মেয়ে, পিতা-মাতা ও ভাই-বোনকে বুঝাইবে৷

চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের সুযোগ-সুবিধা

১১৷ (১) চেয়ারম্যান সরকারের একজন প্রতিমন্ত্রীর অনুরূপ পদমর্যাদা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করিবেন৷

পরিষদের মেয়াদ

১২। ৪১ ধারার বিধান অনুসারে বাতিল না হইলে, পরিষদের মেয়াদ হইবে উহার প্রথম অধিবেশনের তারিখ হইতে পাঁচ বৎসর: তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত মেয়াদ শেষ হওয়া সত্ত্বেও নির্বাচিত নতুন পরিষদ প্রথম অধিবেশনে না বসা পর্যন্ত পরিষদ কার্য চালাইয়া যাইবে।

চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের পদত্যাগ

১৩। (১) সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে চেয়ারম্যান এবং চেয়ারম্যানের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে যে কোন সদস্য স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(২) পদত্যাগ গৃহীত হইবার তারিখ হইতে পদত্যাগ কার্যকর হইবে এবং পদত্যাগকারীর পদ শূন্য হইবে।

চেয়ারম্যান, ইত্যাদির অপসারণ

১৪। (১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য তাঁহার পদ হইতে অপসারণযোগ্য হইবেন, যদি তিনি-

(ক) যুক্তিসংগত কারণ ব্যতিরেকে পরিষদের পর পর তিনটি সভায় অনুপস্থিত থাকেন;

(খ) তাঁহার দায়িত্ব পালন করিতে অস্বীকার করেন অথবা শারীরিক বা মানসিক অসামর্থের কারণে তাঁহার দায়িত্ব পালনে অক্ষম হন; অথবা

(গ) অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের দোষে দোষী সাব্যস্ত হন অথবা পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পত্তির কোন ক্ষতি সাধন বা উহা আত্মসাতের জন্য দায়ী হন।

ব্যাখ্যাঃ- এই উপ-ধারায় ‘অসদাচরণ’ বলিতে ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও ইচ্ছাকৃত কুশাসনও বুঝাইবে।

(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যকে উপ-ধারা (১) এ বর্ণিত কোন কারণে তাঁহার পদ হইতে অপসারণ করা যাইবে না, যদি না বিধি অনুযায়ী তদুদ্দেশ্যে আহুত পরিষদের বিশেষ সভায় ধারা ৫(১)(চ) এ উল্লেখিত সদস্য ব্যতীত অন্যান্য মোট সদস্য-সংখ্যার অনূ্যন তিন চতুর্থাংশ ভোটে তাঁহার অপসারণের পক্ষে প্রস্তাব গৃহীত হয় এবং প্রস্তাবটি সরকার কতর্ৃক অনুমোদিত হয়:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্তরূপ সিদ্ধান্ত গ্রহণের পূর্বে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্যকে প্রস্তাবিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কারণ দর্শাইবার জন্য যুক্তিসংগত সুযোগ দান করিতে হইবে।

(৩) উপ-ধারা (২) অনুযায়ী সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হইলে চেয়ারম্যান বা উক্ত সদস্য তাঁহার পদ হইতে অপসারিত হইয়া যাইবেন।

(৪) এই আইনের অন্যান্য বিধানে যাহা কিছুই থাকুক না কেন, এই ধারা অনুযায়ী অপসারিত কোন ব্যক্তি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য কোন পদে নির্বাচিত হইবার যোগ্য হইবেন না।

চেয়ারম্যান ও সদস্য পদ শূন্য হওয়া

১৫। (১) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইবে, যদি-

(ক) তাঁহার নাম সরকারী গেজেট প্রকাশিত হইবার তারিখ হইতে ত্রিশ দিনের মধ্যে তিনি ধারা ৯ এ নির্ধারিত শপথ গ্রহণ বা ঘোষণা করিতে ব্যর্থ হন:

তবে শর্ত থাকে যে, অনুরূপ মেয়াদ অতিবাহিত হওয়ার পূর্বে সরকার যথার্থ কারণে ইহা বর্ধিত করিতে পারিবে;

(খ) তিনি ধারা ৭ ও ৮ এর অধীনে তাঁহার পদে থাকার অযোগ্য হইয়া যান;

(গ) তিনি ধারা ১৩ এর অধীনে পদ ত্যাগ করেন;

(ঘ) তিনি ধারা ১৪ এর অধীনে তাঁহার পদ হইতে অপসারিত হন;

(ঙ) তিনি মৃতু্যবরণ করেন।

(২) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্য তাঁহার নির্বাচনের পর ধারা ৭ বা ৮ এর অধীনে অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন কিনা সে সম্পর্কে কোন বিতর্ক দেখা দিলে, বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি পরিষদের মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা কতর্ৃক পরিষদের প্রধান কার্যালয় যে পার্বত্য জেলায় অবস্থিত সেই জেলার উপর এখ্তিয়ারসম্পন্ন জেলা জজের নিকট প্রেরিত হইবে এবং জেলা জজ যদি এই অভিমত ব্যক্ত করেন যে, উক্ত চেয়ারম্যান বা সদস্য অনুরূপ অযোগ্য হইয়া গিয়াছেন, তাহা হইলে তিনি স্বীয় পদে বহাল থাকিবেন না এবং জেলা জজের উক্ত অভিমত ব্যক্ত করার তারিখ হইতে চেয়ারম্যান বা সদস্যের পদটি শূন্য হইবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই উপ-ধারার অধীনে কোন প্রশ্ন জেলা জজের নিকট উত্থাপিত হইলে, উক্ত প্রশ্ন প্রাপ্তির অনধিক ৩০ (ত্রিশ) দিনের মধ্যে জেলা জজ প্রশ্নটির উপর অভিমত প্রদান করিবেন।

(৩) চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে বিষয়টি, সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য, উক্ত পদ শূন্য হইবার তারিখ উল্লেখক্রমে সরকারী গেজেটে প্রকাশ করা হইবে।

অস্থায়ী চেয়ারম্যান

১৬। চেয়ারম্যানের পদ কোন কারণে শূন্য হইলে বা অনুপস্থিতি বা অসুস্থতাহেতু বা অন্য কোন কারণে চেয়ারম্যান তাঁহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হইলে, নতুন নির্বাচিত চেয়ারম্যান তাঁহার পদে যোগদান না করা পর্যন্ত বা চেয়ারম্যান পুনরায় স্বীয় দায়িত্ব পালনে সমর্থ না হওয়া পর্যন্ত পরিষদের সদস্যগণ উপ-জাতীয় সদস্যগণের মধ্য হইতে একজনকে অস্থায়ী চেয়ারম্যান হিসাবে নির্বাচিত করিবেন এবং এইরূপ নির্বাচিত সদস্য চেয়ারম্যানরূপে কার্য করিবেন।

উপনির্বাচন

১৭। পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার একশত আশি দিন পূর্বে চেয়ারম্যান বা কোন সদস্যের পদ শূন্য হইলে, পদটি শূন্য হইবার অথবা, ক্ষেত্রমত, ধারা ১৫(২) এর অধীনে পদটি শূন্য হইয়াছে মর্মে জেলাজজ কতর্ৃক অভিমত প্রদানে ষাট দিনের মধ্যে বিধি অনুসারে অনুষ্ঠিত উপ-নির্বাচনের মাধ্যমে উক্ত শূন্য পদ পূরণ করিতে হইবে, এবং যিনি উক্ত পদে নির্বাচিত হইবেন তিনি পরিষদের অবশিষ্ট মেয়াদের জন্য উক্ত পদে বহাল থাকিবেন।

পরিষদের নির্বাচনের সময়

১৮। (১) পরিষদের মেয়াদ শেষ হইবার তারিখের পূর্ববর্তী ষাট দিনের মধ্যে পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।

(২) ৪১ ধারার বিধান অনুসারে পরিষদ বাতিল হইয়া গেলে, ৪১ (৩) ধারা মোতাবেক পরিষদের সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হইবে।

দুই পদের জন্য একই সংগে প্রার্থী হওয়া যাইবে না

১৯। কোন ব্যক্তি একই সংগে চেয়ারম্যান এবং সদস্য পদের জন্য নির্বাচন প্রার্থী হইতে পারিবেন না।

নির্বাচন পরিচালনা

২০। (১) গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী গঠিত নির্বাচন কমিশন অতঃপর, নির্বাচন কমিশন বলিয়া উলি্লখিত, এই আইন ও বিধি অনুযায়ী চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচন অনুষ্ঠানও পরিচালনা করিবে।

(২) সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নির্বাচনের জন্য বিধি প্রণয়ন করিবে এবং অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা:-

(ক) নির্বাচন পরিচালনার উদ্দেশ্যে রিটার্নিং অফিসার, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার নিয়োগ এবং তাঁহাদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;

(খ) ভোটার তালিকা প্রণয়ন;

(গ) প্রার্থী মনোনয়ন, মনোনয়নের ক্ষেত্রে আপত্তি এবং মনোনয়ন বাছাই;

(ঘ) প্রার্থীগণ কতর্ৃক প্রদেয় জামানত এবং উক্ত জামানত ফেরত প্রদান বা বাজেয়াপ্তকরণ;

(ঙ) প্রার্থীপদ প্রত্যাহার;

(চ) প্রার্থীদের এজেন্ট নিয়োগ;

(ছ) প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ক্ষেত্রে নির্বাচন পদ্ধতি;

(জ) ভোট গ্রহণের সময় ও স্থান এবং নির্বাচন পরিচালনা সংক্রান্ত অন্যান্য বিষয়;

(ঝ) ভোট দান পদ্ধতি;

(ঞ) ব্যালট পেপার এবং নির্বাচন সংক্রান্ত অন্যান্য কাগজপত্রের হেফাজত ও বিলিবণ্টন;

(ট) যে অবস্থায় ভোট গ্রহণ স্থগিত করা যায় এবং পুনরায় ভোট গ্রহণ করা যায়;

(ঠ) নির্বাচনী ব্যয়;

(ড) নির্বাচনে দুর্নীতিমূলক বা অবৈধ কার্যকলাপ ও অন্যান্য নির্বাচনী অপরাধ এবং উহার দণ্ড;

(ঢ) নির্বাচনী বিরোধ এবং উহার বিচার ও নিষ্পত্তি; এবং

(ণ) নির্বাচন সম্পর্কিত আনুষংগিক অন্যান্য বিষয়।

(৩) উপ-ধারা (২) (ড) এর অধীনে প্রণীত বিধিতে কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড বা উভয়বিধ দণ্ডের বিধান করা যাইবে, কারাদণ্ডের মেয়াদ দুই বৎসরের অধিক এবং অর্থদণ্ডের পরিমাণ পাঁচ হাজার টাকার অধিক হইবে না।

চেয়ারম্যান ও সদস্যগণের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ

২১। চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসাবে নির্বাচিত সকল ব্যক্তির নাম নির্বাচনের পর, যথাশীঘ্র সম্ভব, নির্বাচন কমিশন সরকারী গেজেটে প্রকাশ করিবে।

পরিষদের কার্যাবলী

২২। পরিষদের কার্যাবলী হইবে নিম্নরূপ, যথা:-

(ক) পার্বত্য জেলা পরিষদের অধীনে পরিচালিত সকল উন্নয়ন কর্মকাণ্ডসহ উহাদের আওতাধীন এবং উহাদের উপর অর্পিত বিষয়াদির সার্বিক তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন:

তবে শর্ত থাকে যে, এই দফা অনুসারে পরিষদ কতর্ৃক তত্ত্বাবধান বা সমন্বয় সাধনের ক্ষেত্রে, কোন বিষয়ে কোন পার্বত্য জেলা পরিষদের সহিত আঞ্চলিক পরিষদের বা একাধিক পার্বত্য জেলা পরিষদের মধ্যে মতবিরোধ দেখা দিলে, পরিষদের সিদ্ধান্ত, এই আইনের বিধান সাপেক্ষে, চূড়ান্ত হইবে;

(খ) পৌরসভাসহ স্থানীয় পরিষদসমূহ তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন;

(গ) Chittagong Hill Tracts Development Board Ordinance, 1976 (LXXVII of 1976) দ্বারা স্থাপিত পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এর কার্যাবলীর সার্বিক তত্ত্বাবধান;

(ঘ) পার্বত্য জেলার সাধারণ প্রশাসন, আইন শৃঙ্খলা ও উন্নয়নের তত্ত্বাবধান ও সমন্বয় সাধন;

(ঙ) উপ-জাতীয় রীতিনীতি, প্রথা ইত্যাদি এবং সামাজিক বিচার সমন্বয় ও তত্ত্বাবধান;

(চ) জাতীয় শিল্প নীতির সহিত সংগতি রাখিয়া পার্বত্য জেলাসমূহে ভারী শিল্প স্থাপনের লাইসেন্স প্রদান;

(ছ) দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা এবং এনজিও কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন।

নির্বাহী ক্ষমতা

২৩। (১) এই আইনের অধীন যাবতীয় কার্যাবলী যথাযথভাবে সম্পাদনের ক্ষমতা পরিষদের থাকিবে।

(২) এই আইন বা বিধিতে ভিন্নরূপ বিধান না থাকিলে, পরিষদের নির্বাহী ক্ষমতা চেয়ারম্যানের উপর ন্যস্ত হইবে এবং এই আইন ও প্রবিধান অনুযায়ী চেয়ারম্যান কতর্ৃক প্রত্যক্ষভাবে অথবা তাঁহার নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্য কোন ব্যক্তির মাধ্যমে প্রযুক্ত হইবে।

(৩) পরিষদের নির্বাহী বা অন্য কোন কার্য পরিষদের নামে গৃহীত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশ করা হইবে এবং উহা প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রমাণীকৃত বা সম্পাদিত হইতে হইবে।

কার্যাবলী নিষ্পন্ন

২৪। (১) পরিষদের কার্যাবলী প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত সীমার মধ্যে ও পদ্ধতিতে উহার বা উহার কমিটিসমূহের সভায় অথবা উহার চেয়ারম্যান, সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারী কতর্ৃক নিষ্পন্ন করা হইবে।

(২) পরিষদের সকল সভায় চেয়ারম্যান এবং তাঁহার অনুপস্থিতিতে সভায় উপস্থিত সদস্যগণ কতর্ৃক উপ-জাতীয় সদস্যগণের মধ্য হইতে নির্বাচিত অন্য কোন সদস্য সভাপতিত্ব করিবেন।

(৩) পরিষদের কোন সদস্য পদ শূন্য রহিয়াছে বা উহার গঠনে কোন ত্রুটি রহিয়াছে কেবল এই কারণে কিংবা পরিষদের বৈঠকে উপস্থিত হইবার বা ভোট দানের বা অন্য কোন উপায়ে উহার কার্যধারায় অংশগ্রহণের অধিকার না থাকা সত্ত্বেও কোন ব্যক্তি অনুরূপ কার্য করিয়াছেন কেবল এই কারণে পরিষদের কার্য বা কার্যধারা অবৈধ হইবে না।

(৪) পরিষদের প্রত্যেক সভার কার্যবিবরণীর একটি করিয়া অনুলিপি সভা অনুষ্ঠিত হইবার তারিখের চৌদ্দ দিনের মধ্যে সরকারের নিকট প্রেরণ করিতে হইবে।

কমিটি

২৫। পরিষদ উহার কাজের সহায়তার জন্য প্রয়োজনবোধে কমিটি নিয়োগ করিতে পারিবে এবং উক্তরূপ কমিটির সদস্য সংখ্যা ও ইহার দায়িত্ব এবং কার্যধারা নির্ধারণ করিতে পারিবে।

চুক্তি

২৬। (১) পরিষদ কতর্ৃক বা উহার পক্ষে সম্পাদিত সকল চুক্তি-

(ক) লিখিত হইতে হইবে এবং পরিষদের নামে সম্পাদিত হইয়াছে বলিয়া প্রকাশিত হইতে হইবে;

(খ) প্রবিধান অনুসারে সম্পাদিত হইতে হইবে।

(২) কোন চুক্তি সম্পাদনের অব্যবহিত পরে অনুষ্ঠিত পরিষদের সভায় চেয়ারম্যান চুক্তিটি সম্পর্কে উহাকে অবহিত করিবেন।

(৩) পরিষদ প্রস্তাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ধরনের চুক্তি সম্পাদনের জন্য পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং চেয়ারম্যান চুক্তি সম্পাদনের ব্যাপারে উক্ত প্রস্তাব অনুযায়ী কাজ করিবেন।

(৪) এই ধারার খেলাপ সম্পাদিত কোন চুক্তির দায়িত্ব পরিষদের উপর বর্তাইবে না।

নথি-পত্র প্রতিবেদন ইত্যাদি

২৭। পরিষদ-

(ক) উহার কার্যাবলীর নথিপত্র প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সংরক্ষণ করিবে;

(খ) প্রবিধানে উলি্লখিত বিষয়ের উপর সাময়িক প্রতিবেদন ও বিবরণী প্রণয়ন ও প্রকাশ করিবে;

(গ) উহার কার্যাবলী সম্পর্কে তথ্য প্রকাশের জন্য প্রয়োজনীয় বা সরকার কতর্ৃক সময় সময় নির্দেশিত অন্যান্য ব্যবস্থাও গ্রহণ করিতে পারিবে।

পরিষদের মুখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা

২৮। (১) পরিষদের একজন মূখ্য নির্বাহী কর্মকর্তা থাকিবেন এবং তিনি সরকারের যুগ্ম-সচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের মধ্য হইতে নিযুক্ত হইবেন:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উপ-জাতীয় কর্মকর্তাগণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।

পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী নিয়োগ

২৯। (১) পরিষদের কার্যাদি সুষ্ঠুভাবে সম্পাদনের নিমিত্ত পরিষদ, সরকারের অনুমোদনক্রমে, বিভিন্ন শ্রেণীর কর্মকর্তা-কর্মচারীর পদ সৃষ্টি করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, এই সব পদে নিয়োগে পার্বত্য জেলাসমূহের উপ-জাতীয় বাসিন্দাদের অগ্রাধিকার দেওয়া হইবে।

(২) পরিষদ প্রবিধান অনুযায়ী তৃতীয় ও চতুর্থ শ্রেণীর পদে কর্মচারী নিয়োগ করিতে পারিবে এবং তাহাদিগকে বদলী ও সাময়িক বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য কোন প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) পরিষদের অন্যান্য পদে বিধি অনুযায়ী সরকার পরিষদের পরামর্শক্রমে কর্মকর্তা নিয়োগ করিতে পারিবে এবং এই সকল কর্মকর্তাকে সরকার অন্যত্র বদলী ও সাময়িক বরখাস্ত, বরখাস্ত, অপসারণ বা অন্য প্রকার শাস্তি প্রদান করিতে পারিবে।

ভবিষ্য তহবিল, ইত্যাদি

৩০। (১) পরিষদ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণের জন্য ভবিষ্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত হারে উক্ত তহবিলে চাঁদা প্রদান করিবার জন্য উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণকে নির্দেশ দিতে পারিবে।

(২) পরিষদ ভবিষ্য তহবিলে চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে।

(৩) পরিষদের কোন কর্মকর্তা বা কর্মচারী তাহার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করার কারণে অসুস্থ হইয়া বা আঘাতপ্রাপ্ত হইয়া মৃতু্যবরণ করিলে পরিষদ, সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে, উক্ত কর্মকর্তা বা কর্মচারীর পরিবারবর্গকে প্রবিধান অনুযায়ী গ্র্যাচুইটি প্রদান করিতে পারিবে।

(৪) পরিষদ উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্য প্রবিধান অনুযায়ী সামাজিক বীমা প্রকল্প চালু করিতে পারিবে এবং উহাতে তাহাদিগকে চাঁদা প্রদানের নির্দেশ দিতে পারিবে।

(৫) পরিষদ উহার কর্মচারীদের জন্য প্রবিধান অনুযায়ী বদান্য তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং উহা হইতে উপ-ধারা (৩) এ উলি্লখিত গ্র্যাচুইটি এবং প্রবিধান অনুযায়ী অন্যান্য সাহায্য প্রদান করিতে পারিবে।

(৬) উপ-ধারা (৫) এর অধীন গঠিত তহবিলে পরিষদ চাঁদা প্রদান করিতে পারিবে।

চাকুরী প্রবিধান

৩১। পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-

(ক) পরিষদ কতর্ৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের চাকুরীর শর্তাদি নির্ধারণ করিতে পারিবে;

(খ) পরিষদ কতর্ৃক নিয়োগ করা যাইবে এইরূপ সকল পদে নিয়োগের জন্য যোগ্যতা এবং নীতিমালা নির্ধারণ করিতে পারিবে;

(গ) পরিষদ কতর্ৃক নিযুক্ত কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বিরুদ্ধে শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য তদন্তের পদ্ধতি নির্ধারণ করিতে পারিবে এবং তাহাদের বিরুদ্ধে শাস্তির বিধান ও শাস্তির বিরুদ্ধে আপীলের বিধান করিতে পারিবে;

(ঘ) পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের দায়িত্ব সুষ্ঠুভাবে পালনের জন্য প্রয়োজনীয় বিধান করিতে পারিবে।

পরিষদের তহবিল, ইত্যাদি

৩২। (১) পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ তহবিল নামে পরিষদের একটি তহবিল থাকিবে।

(২) পরিষদের তহবিলে নিম্নবর্ণিত অর্থ জমা হইবে, যথা:-

(ক) পার্বত্য জেলা পরিষদের তহবিল হইতে প্রদেয় অর্থ, যাহার পরিমাণ সময় সময় সরকার কতর্ৃক নির্ধারিত হইবে;

(খ) পরিষদের উপর ন্যস্ত এবং তৎকতর্ৃক পরিচালিত সম্পত্তি, যদি থাকে, হইতে প্রাপ্ত অর্থ বা মুনাফা;

(গ) সরকার বা অন্যান্য কতর্ৃপক্ষের ঋণ ও অনুদান;

(ঘ) কোন প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তি কতর্ৃক প্রদত্ত অনুদান;

(ঙ) পরিষদের অর্থ বিনিয়োগ হইতে অর্জিত মুনাফা;

(চ) পরিষদ কতর্ৃক প্রাপ্ত যে কোন অর্থ;

(ছ) সরকারের নির্দেশে পরিষদের উপর ন্যস্ত অন্যান্য আয়ের উৎস হইতে প্রাপ্ত অর্থ।

পরিষদের তহবিল সংরক্ষণ, বিনিয়োগ, ইত্যাদি

৩৩। (১) পরিষদের তহবিলের অর্থ কোন সরকারী ট্রেজারী বা উহার কার্য পরিচালনাকারী কোন ব্যাংকে রাখা হইবে।

(২) প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে পরিষদ উহার তহবিলের অর্থ পরিষদের প্রয়োজনে বিনিয়োগ করিতে পারিবে।

(৩) পরিষদ, ইচ্ছা করিলে, কোন বিশেষ উদ্দেশ্যে আলাদা তহবিল গঠন করিতে পারিবে এবং প্রবিধান দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে উক্ত তহবিল পরিচালনা করিবে।

পরিষদের তহবিলের প্রয়োগ

৩৪। (১) পরিষদের তহবিলের অর্থ নিম্নলিখিত খাতে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, ব্যয় করা যাইবে, যথা:-

প্রথমত: পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা প্রদান;

দ্বিতীয়ত: উপ-ধারা (২) এ নির্ধারিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;

তৃতীয়ত: এই আইন দ্বারা ন্যস্ত পরিষদের দায়িত্ব সম্পাদন এবং কর্তব্য পালনের জন্য ব্যয়;

চতুর্থত: সরকারের পূর্বানুমোদনক্রমে পরিষদ কতর্ৃক ঘোষিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়;

পঞ্চমত: সরকার কতর্ৃক ঘোষিত পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয়।

(২) পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত ব্যয় নিম্নরূপ হইবে, যথা:-

(ক) পরিষদের চাকুরীতে নিয়োজিত কোন সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীর জন্য দেয় অর্থ;

(খ) সরকারের নির্দেশে পরিষদ সার্ভিসের রক্ষণাবেক্ষণ, হিসাব-নিরীক্ষা বা অন্য কোন বিষয়ের জন্য দেয় অর্থ;

(গ) কোন আদালত বা ট্রাইবু্যনাল কতর্ৃক পরিষদের বিরুদ্ধে প্রদত্ত কোন রায়, ডিক্রি বা রোয়েদাদ কার্যকর করিবার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ;

(ঘ) বিধি দ্বারা দায়যুক্ত বলিয়া নির্ধারিত অন্য যে কোন ব্যয়।

(৩) পরিষদের তহবিলের উপর দায়যুক্ত কোন ব্যয়ের খাতে যদি কোন অর্থ অপরিশোধিত থাকে, তাহা হইলে যে ব্যক্তির হেফাজতে উক্ত তহবিল থাকিবে সে ব্যক্তিকে সরকার আদেশ দ্বারা উক্ত তহবিল হইতে ঐ অর্থ যতদূর সম্ভব, পরিশোধ করিবার জন্য নির্দেশ দিতে পারিবে।

বাজেট

৩৫। (১) প্রতি অর্থ বৎসর শুরু হইবার পূর্বে পরিষদ উক্ত বৎসরের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয় সম্বলিত বিবরণী, অতঃপর বাজেট বলিয়া উলি্লখিত, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে প্রণয়ন ও অনুমোদন করিবে এবং উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।

(২) কোন অর্থ বৎসর শুরু হইবার পূর্বে পরিষদ ইহার বাজেট অনুমোদন করিতে না পারিলে, সরকার উক্ত বৎসরের জন্য একটি আয় ব্যয় বিবরণী প্রস্তুত করাইয়া উহা প্রত্যয়ন করিবে এবং এইরূপ প্রত্যয়নকৃত বিবরণী পরিষদের অনুমোদিত বজেট বলিয়া গণ্য হইবে।

(৩) এই আইন মোতাবেক গঠিত পরিষদ প্রথমবার যে অর্থ বৎসরে দায়িত্বভার গ্রহণ করিবে সেই অর্থ বৎসরের বাজেট উক্ত দায়িত্বভার গ্রহণের পর অর্থ-বৎসরটির বাকী সময়ের জন্য প্রণীত হইবে এবং উক্ত বাজেটের ক্ষেত্রে এই ধারার বিধানাবলী, যতদূর সম্ভব, প্রযোজ্য হইবে।

(৪) কোন অর্থ বৎসর শেষ হইবার পূর্বে যে কোন সময় পরিষদ প্রয়োজন মনে করিলে সেই অর্থ বৎসরের জন্য প্রণীত বা অনুমোদিত বাজেট পূনঃপ্রণয়ন বা সংশোধন করিতে পারিবে এবং যথাশীঘ্র সম্ভব উহার একটি অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।

হিসাব

৩৬। (১) পরিষদের আয়-ব্যয়ের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও ফরমে রক্ষা করা হইবে।

(২) প্রতিটি অর্থ বৎসর শেষ হইবার পর পরিষদ একটি বার্ষিক আয় ও ব্যয়ের হিসাব প্রস্তুত করিবে এবং পরবর্তী অর্থ বৎসরের ৩১শে ডিসেম্বরের মধ্যে উহা সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৩) উক্ত বার্ষিক আয় ব্যয়ের হিসাবের একটি অনুলিপি জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য পরিষদ কার্যালয়ের কোন প্রকাশ্য স্থানে সাঁটিয়া দিতে হইবে এবং উক্ত হিসাব সম্পর্কে জনসাধারণের আপত্তি বা পরামর্শ পরিষদে বিবেচনা করিবে।

হিসাব নিরীক্ষা

৩৭। (১) পরিষদের আয় ব্যয়ের হিসাব বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও বিধি দ্বারা নির্ধারিত কতর্ৃপক্ষের দ্বারা নিরীক্ষিত হইবে।

(২) নিরীক্ষাকারী কতর্ৃপক্ষ পরিষদের সকল হিসাব সংক্রান্ত যাবতীয় বহি ও অন্যান্য দলিল পরীক্ষা করিতে পারিবে এবং প্রয়োজনবোধে পরিষদের চেয়ারম্যান ও যে কোন সদস্য, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করিতে পারিবে।

(৩) হিসাব-নিরীক্ষার পর নিরীক্ষাকারী কতর্ৃপক্ষ সরকারের নিকট নিরীক্ষা প্রতিবেদন পেশ করিবে এবং উহাতে, অন্যান্য বিষয়ের মধ্যে, নিম্নবর্ণিত বিষয়াদির উল্লেখ থাকিবে, যথা:-

(ক) অর্থ আত্মসাৎ;

(খ) পরিষদ-তহবিলের লোকসান অপচয় এবং অপপ্রয়োগ;

(গ) হিসাবরক্ষণে অনিয়ম;

(ঘ) নিরীক্ষাকারী কতর্ৃপক্ষের মতে যাহারা প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে উক্ত আত্মসাৎ, লোকসান, অপচয়, অপপ্রয়োগ বা অনিয়মের জন্য দায়ী তাহাদের নাম।

পরিষদের সম্পত্তি

৩৮। (১) পরিষদ প্রবিধান দ্বারা-

(ক) পরিষদের উপর ন্যস্ত বা উহার মালিকানাধীন সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও উন্নয়নের জন্য বিধান করিতে পারিবে;

(খ) উক্ত সম্পত্তির হস্তান্তর নিয়ন্ত্রণ করিতে পারিবে।

(২) পরিষদ-

(ক) উহার মালিকানাধীন বা উহার উপর বা উহার তত্ত্বাবধানে ন্যস্ত যে কোন সম্পত্তির ব্যবস্থাপনা, রক্ষণাবেক্ষণ, পরিদর্শন ও উন্নয়ন করিতে পারিবে;

(খ) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে উক্ত সম্পত্তি কাজে লাগাইতে পারিবে;

(গ) দান, বিক্রয়, বন্ধক, ইজারা বা বিনিময়ের মাধ্যমে বা অন্য কোন পন্থায় যে কোন সম্পত্তি অর্জন বা হস্তান্তর করিতে পারিবে।

পরিষদের নিকট চেয়ারম্যান, ইত্যাদির দায়

৩৯। পরিষদের চেয়ারম্যান অথবা উহার কোন সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারী অথবা পরিষদ প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বা পরিষদের পক্ষে কর্মরত কোন ব্যক্তির প্রত্যক্ষ গাফিলতি বা অসদাচরণের কারণে পরিষদের কোন অর্থ বা সম্পদের লোকসান, অপচয় বা অপপ্রয়োগ হইলে, উহার জন্য তিনি দায়ী থাকিবেন এবং বিধি দ্বারা নির্ধারিত পদ্ধতিতে সরকার তাহার এই দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করিবে এবং যে টাকার জন্য তাহাকে দায়ী করা হইবে সেই টাকা সরকারী দাবী (public demand) হিসাবে তাঁহার নিকট হইতে আদায় করা হইবে।

পরিষদের কার্যাবলীর উপর নিয়ন্ত্রণ

৪০। (১) এই আইনের উদ্দেশ্যের সহিত পরিষদের কার্যকলাপের সামঞ্জস্য বিধানকল্পে সরকার, প্রয়োজনে, পরিষদকে পরামর্শ বা অনুশাসন করিতে পারিবে।

(২) সরকার যদি নিশ্চিতভাবে এইরূপ প্রমাণ পায় যে, পরিষদের দ্বারা বা পক্ষে কৃত বা প্রস্তাবিত কোন কাজকর্ম সংবিধান বা এই আইনের সহিত সংগতিপূর্ণ নহে অথবা জনস্বার্থের পরিপন্থী, তাহা হইলে সরকার, লিখিতভাবে, সংশ্লিষ্ট বিষয়ে পরিষদের নিকট হইতে তথ্য ও ব্যাখ্যা চাহিতে পারিবে এবং, প্রয়োজনবোধে, পরামর্শ প্রদান করিতে পারিবে এবং পরিষদ উক্ত তথ্য ও ব্যাখ্যা সরবরাহ করিবে বা পরামর্শ বাস্তবায়ন করিবে।

পরিষদ বাতিলকরণ

৪১। (১) যদি প্রয়োজনীয় তদন্তের পর সরকার এইরূপ অভিমত পোষণ করে যে, পরিষদ-

(ক) উহার দায়িত্ব পালনে অসমর্থ অথবা ক্রমাগতভাবে উহার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হইয়াছে;

(খ) উহার প্রশাসনিক ও আর্থিক দায়িত্ব পালনে অসমর্থ;

(গ) সাধারণতঃ এমন কাজ করে যাহা জনস্বার্থ বিরোধী;

(ঘ) অন্য কোনভাবে উহার ক্ষমতার সীমা লংঘন বা ক্ষমতার অপব্যবহার করিয়াছে বা করিতেছে;

তাহা হইলে সরকার, সরকারী গেজেটে প্রকাশিত আদেশ দ্বারা, পরিষদকে বাতিল করিতে পারিবে:

তবে শর্ত থাকে যে, উক্ত আদেশ প্রদানের পূর্বে পরিষদকে উহার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর সুযোগ দিতে হইবে।

(২) উপ-ধারা (১) এর অধীন কোন আদেশ প্রকাশিত হইলে-

(ক) পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্যান্য সদস্য তাহাদের পদে বহাল থাকিবেন না;

(খ) বাতিল থাকাকালীন সময়ে পরিষদের যাবতীয় দায়িত্ব সরকার কতর্ৃক নিয়োজিত কোন ব্যক্তি বা কতর্ৃপক্ষ পালন করিবে।

(৩) উপ-ধারা (১) এর অধীন বাতিলাদেশ সরকারী গেজেটে প্রকাশের নব্বই দিনের মধ্যে এই আইন ও বিধি মোতাবেক পরিষদ পুনর্গঠিত হইবে।

পরিষদ ও অন্য কোন স্থানীয় কতর্ৃপক্ষের বিরোধ

৪২। পরিষদ এবং পার্বত্য জেলা পরিষদ ব্যতিরেকে অন্য কোন স্থানীয় কতর্ৃপক্ষের মধ্যে কোন বিরোধ দেখা দিলে বিরোধীয় বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সরকারের নিকট প্রেরিত হইবে এবং এই ব্যাপারে সরকারের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

আপীল

৪৩। এই আইন বা কোন বিধি বা প্রবিধান অনুসারে পরিষদ বা উহার চেয়ারম্যানের কোন আদেশ দ্বারা কোন ব্যক্তি সংক্ষুব্ধ হইলে তিনি, উক্ত আদেশ প্রদানের ত্রিশ দিনের মধ্যে, সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নিকট উহার বিরুদ্ধে আপীল করিতে পারিবেন এবং এই আপীলের উপর উক্ত মন্ত্রণালয় বা বিভাগের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হইবে।

পরিষদ ও সরকারের কার্যাবলীর সমন্বয় সাধন

৪৪। পরিষদ ও সরকারের কার্যাবলীর মধ্যে সমন্বয়ের প্রয়োজন দেখা দিলে এতদ্বিষয়ে সরকার বা পরিষদ পরস্পরের নিকট সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব উত্থাপন করিতে পারিবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ বা আলোচনার মাধ্যমে প্রয়োজনীয় সমন্বয় সাধন করা হইবে।

বিধি প্রণয়নের ক্ষমতা

৪৫। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে সরকার, পরিষদের সহিত পরামর্শক্রমে এবং সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, বিধি প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(২) বিশেষ করিয়া এবং উপরিউক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতাকে ক্ষুণ্ন না করিয়া, অনুরূপ বিধিতে নিম্নবর্ণিত সকল অথবা যে কোন বিষয়ে বিধান করা যাইবে, যথা:-

(ক) পরিষদের চেয়ারম্যান এবং সদস্যদের ক্ষমতা ও দায়িত্ব;

(খ) হিসাব রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরীক্ষণ;

(গ) পরিষদের কর্মকর্তা ও কর্মচারী এবং অন্য কোন ব্যক্তির দায়-দায়িত্ব নির্ধারণ করার পদ্ধতি;

(ঘ) পরিষদের আদেশের বিরুদ্ধে আপীলের পদ্ধতি;

(ঙ) পরিষদ পরিদর্শনের পদ্ধতি এবং পরিদর্শকের ক্ষমতা;

(চ) এই আইনের অধীন বিধি দ্বারা নির্ধারণ করিতে হইবে বা করা যাইবে এমন যে কোন বিষয়।

(৩) কোন বিধি প্রণয়নের পর পরিষদের বিবেচনায় যদি উক্ত বিধি পার্বত্য অঞ্চলের জন্য কষ্টকর বা আপত্তিকর বলিয়া প্রতীয়মান হয় তাহা হইলে পরিষদ সংশ্লিষ্ট কারণ উল্লেখপূর্বক সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবসহ উক্ত বিধি পুনর্বিবেচনা, সংশোধন, বাতিল বা উহার প্রয়োগ শিথিল করার জন্য সরকারের নিকট আবেদন করিতে পারিবে এবং সরকার এই আবেদন বিবেচনাক্রমে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করিতে পারিবে।

প্রবিধান প্রণয়নের ক্ষমতা

৪৬। (১) এই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে পরিষদ এই আইনের বা কোন বিধির বিধানের সহিত অসামঞ্জস্যপূর্ণ না হয় এইরূপ প্রবিধান প্রণয়ন করিতে পারিবে।

(২) বিশেষ করিয়া এবং উপরিউক্ত ক্ষমতার সামগ্রিকতা ক্ষণ্ন না করিয়া, অনুরূপ প্রবিধানে নিম্নরূপ সকল অথবা যে কোন বিষয়ের বিধান করা যাইবে, যথা:-

(ক) পরিষদের কার্যাবলী পরিচালনা;

(খ) পরিষদের সভার কোরাম নির্ধারণ;

(গ) পরিষদের সভায় প্রশ্ন উত্থাপন;

(ঘ) পরিষদের সভা আহ্বান;

(ঙ) পরিষদের সভার কার্যবিবরণী লিখন;

(চ) পরিষদের সভায় গৃহীত প্রস্তাবের বাস্তবায়ন;

(ছ) পরিষদের সাধারণ সীলমোহরের হেফাজত ও ব্যবহার;

(জ) পরিষদের অফিসের বিভাগ ও শাখা গঠন এবং উহাদের কাজের পরিধি নির্ধারণ;

(ঝ) কার্যনির্বাহী সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয়;

(ঞ) পরিষদ কতর্ৃক নিয়োগ করা যাইবে এমন সকল পদে কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নিয়োগ ও তাহাদের শৃঙ্খলা;

(ট) কোন্ কোন্ ক্ষেত্রে লাইসেন্স প্রয়োজন হইবে এবং কি কি শর্তে উহা প্রদান করা হইবে তাহা নির্ধারণ;

(ঠ) এই আইনের অধীন প্রবিধান দ্বারা নির্ধারণ করিতে হইবে বা করা যাইবে এইরূপ যে কোন বিষয়।

(৩) পরিষদের বিবেচনায় যে প্রকারে প্রকাশ করিলে কোন প্রবিধান সম্পর্কে জনসাধারণ ভালভাবে অবহিত হইতে পারে সেই প্রকারে প্রত্যেক প্রবিধান প্রকাশ করিতে হইবে।

(৪) এই ধারার অধীনে প্রণীত প্রবিধান প্রণয়নের ৩০ (ত্রিশ দিনের মধ্যে পরিষদ উক্ত প্রবিধানের অনুলিপি সরকারের নিকট প্রেরণ করিবে।

(৫) প্রণীত প্রবিধানের কোন অংশ সম্পর্কে সরকার যদি মতভিন্নতা পোষণ করে তাহা হইলে সরকার উক্ত প্রবিধান সংশোধনের জন্য পরামর্শ দিতে বা অনুশাসন করিতে পারিবে।

পরিষদের পক্ষে বা বিপক্ষে মামলা

৪৭। (১) পরিষদের বিরুদ্ধে বা পরিষদ সংক্রান্ত কোন কাজের জন্য উহার কোন সদস্য বা কর্মকর্তা বা কর্মচারীর বিরুদ্ধে কোন মামলা দায়ের করিতে হইলে মামলা দায়ের করিতে ইচ্ছুক ব্যক্তি মামলার কারণ এবং বাদীর নাম ও ঠিকানা উল্লেখ করিয়া একটি নোটিশ-

(ক) পরিষদের ক্ষেত্রে, পরিষদের প্রধান কার্যালয়ে প্রদান করিবেন বা পেঁৗছাইয়া দিবেন;

(খ) অন্যান্য ক্ষেত্রে, সংশ্লিষ্ট সদস্য, কর্মকর্তা বা কর্মচারীর নিকট ব্যক্তিগতভাবে বা তাহার অফিস বা বাসস্থানে প্রদান করিবেন বা পেঁৗছাইয়া দিবেন।

(২) উক্ত নোটিশ প্রদান বা পেঁৗছানোর পর ত্রিশ দিন অতিবাহিত না হওয়া পর্যন্ত কোন মামলা দায়ের করা যাইবে না এবং মামলার আরজীতে উক্ত নোটিশ প্রদান করা বা পেঁৗছানো হইয়াছে কি না উহার উল্লেখ থাকিতে হইবে।

নোটিশ এবং উহার জারীকরণ

৪৮। (১) এই আইন, বিধি বা প্রবিধান পালনের জন্য কোন কাজ করা বা ইহা করা হইতে বিরত থাকা যদি কোন ব্যক্তির কর্তব্য হয়, তাহা হইলে কোন সময়ের মধ্যে উহা করিতে হইবে বা ইহা করা হইতে বিরত থাকিতে হইবে তাহা উল্লেখ করিয়া তাহার উপর একটি নোটিশ জারী করিতে হইবে।

(২) এই আইনের অধীন প্রদেয় কোন নোটিশ গঠনগত ত্রুটির কারণে অবৈধ হইবে না।

(৩) ভিন্নরূপ কোন বিধান না থাকিলে, এই আইনের অধীন প্রদেয় সকল নোটিশ উহার প্রাপককে হাতে হাতে প্রদান করিয়া অথবা তাহার নিকট ডাকযোগে প্রেরণ করিয়া বা তাহার বাসস্থান বা কর্মস্থলের কোন প্রকাশ্য স্থানে সাঁটিয়া দিয়া জারী করিতে হইবে।

(৪) যে নোটিশ সর্বসাধারণের জন্য তাহা পরিষদ কতর্ৃক নির্ধারিত কোন প্রকাশ্য স্থানে সাঁটিয়া দিয়া জারী করা হইলে উহা যথাযথভাবে জারী হইয়াছে বলিয়া গণ্য হইবে।

প্রকাশ্য রেকর্ড

৪৯। এই আইনের অধীন প্রস্তুতকৃত এবং সংরক্ষিত যাবতীয় রেকর্ড এবং রেজিস্টার Evidence Act, 1872 (I of 1872) তে যে অর্থে প্রকাশ্য রেকর্ড (public document)অভিব্যক্তিটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে প্রকাশ্য রেকর্ড (public document) বলিয়া গণ্য হইবে এবং বিপরীত প্রমাণিত না হইলে, উহাকে সঠিক রেকর্ড বা রেজিষ্টার বলিয়া গণ্য করিতে হইবে।

পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য, ইত্যাদি জনসেবক (public servant) গণ্য হইবেন

৫০। পরিষদের চেয়ারম্যান ও উহার অন্যান্য সদস্য এবং উহার কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ এবং পরিষদের পক্ষে কাজ করার জন্য যথাযথভাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত অন্যান্য ব্যক্তি চবহধষ ঈড়ফব Penal Code (Act XLV of 1860) এর section 21 এ যে অর্থে জনসেবক (public servant) অভিব্যক্তিটি ব্যবহৃত হইয়াছে সেই অর্থে জনসেবক (public servant) বলিয়া গণ্য হইবেন।

সরল বিশ্বাসে কৃত কাজকর্ম রক্ষণ

৫১। এই আইন, বিধি বা প্রবিধান এর অধীন সরল বিশ্বাসে কৃত কোন কাজের ফলে কোন ব্যক্তি ক্ষতিগ্রস্ত হইলে বা তাহার ক্ষতিগ্রস্ত হইবার সম্ভাবনা থাকিলে তজ্জন্য সরকার, পরিষদ বা উহাদের নিকট হইতে ক্ষমতাপ্রাপ্ত কোন ব্যক্তি বা সংশ্লিষ্ট সরকারী কর্মকর্তা-কর্মচারী বা পরিষদের কর্মকর্তা-কর্মচারী-এর বিরুদ্ধে কোন দেওয়ানী বা ফৌজদারী মামলা বা অন্য কোন আইনগত কার্যক্রম গ্রহণ করা যাইবে না।

অসুবিধা দূরীকরণ

৫২। (১) এই আইনের বিধানাবলী কার্যকর করিবার ক্ষেত্রে কোন অসুবিধা দেখা দিলে সরকার উক্ত অসুবিধা দূরীকরণার্থে, আদেশ দ্বারা, প্রয়োজনীয় যে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করিতে পারিবে।

(২) ১৯০০ সালের পার্বত্য চট্টগ্রাম শাসন বিধি এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট আইন, বিধি ও অধ্যাদেশের সাথে ১৯৮৯ সনের পার্বত্য জেলা পরিষদ আইনের (১৯৮৯ সনের ১৯, ২০ ও ২১ নম্বর আইন) যদি কোন অসঙ্গতি পরিলক্ষিত হয় তবে আঞ্চলিক পরিষদের পরামর্শ ও সুপারিশক্রমে সেই অসঙ্গতি আইনের মাধ্যমে দূর করা হইবে।

আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে পরিষদের সহিত আলোচনা, ইত্যাদি

৫৩। (১) সরকার পরিষদ বা পার্বত্য চট্টগ্রাম সম্পর্কে কোন আইন প্রণয়নের উদ্যোগ গ্রহণ করিলে পরিষদ ও সংশ্লিষ্ট পার্বত্য জেলা পরিষদের সহিত আলোচনাক্রমে এবং পরিষদের পরামর্শ বিবেচনাক্রমে আইন প্রণয়নের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করিবে।

(২) তিনটি পার্বত্য জেলার উন্নয়ন ও উপ-জাতীয় জনগণের কল্যাণের পথে বিরূপ ফল হইতে পারে এই রূপ আইনের পরিবর্তন বা নতুন আইনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দিলে পরিষদ সরকারের নিকট আবেদন অথবা সুপারিশমালা পেশ করিতে পারিবে।

ক্রান্তিকালীন বিধান

৫৪। (১) ধারা ৩ এর অধীনে পরিষদ স্থাপনের পর যতশীঘ্র সম্ভব সরকার, সরকারী গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, একটি অন্তর্বর্তীকালীন পরিষদ, অতঃপর অন্তর্বর্তী পরিষদ বলিয়া উলি্লখিত, গঠন করিবে।

(২) অন্তর্বর্তী পরিষদের চেয়ারম্যানসহ সকল সদস্য সরকার কতর্ৃক মনোনীত হইবেন এবং তাহাদের মনোনয়ন ক্ষেত্রে ধারা ৭ ও ৮ এ উলি্লখিত যোগ্যতা ও অযোগ্যতা প্রযোজ্য হইবে।

(৩) অন্তর্বর্তী পরিষদের চেয়ারম্যান ও অন্য যে কোন সদস্য সরকারের উদ্দেশ্যে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রযোগে স্বীয় পদ ত্যাগ করিতে পারিবেন।

(৪) অন্তর্বর্তী পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যগণ এই আইনের ধারা ১১ এর বিধান অনুযায়ী সুযোগ সুবিধা ভোগ করিতে পারিবেন।

(৫) ধারা ৫ অনুসারে পরিষদ গঠিত না হওয়া পর্যন্ত অন্তর্বর্তী পরিষদ ধারা ২২ এ উলি্লখিত কার্যাবলী যতটুকু প্রযোজ্য হয়, এবং এই আইনের অধীন অন্যান্য কার্যাবলী সম্পাদন ও ক্ষমতা প্রয়োগ করিতে পারিবে।

(৬) ধারা ৯ অনুসারে পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের সদস্যগণ বা তাহাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ শপথ গ্রহণের সংগে সংগে অন্তর্বর্তী পরিষদের অস্তিত্বও আপনা আপনি বিলুপ্ত হইবে।

Source : Ministry of Law, Justice and Parliamentary Affairs


The Chittagong Hill Tracts Loans Regulation, 1938.

REGULATION MADE UNDER SECTION 92 (2) OF THE GOVERNMENT OF INDIA ACT; AND THE RULES FRAMED THEREUNDER.  BENGAL REGULATION NO. 1 OF 1938.

The Chittagong Hill Tracts Loans Regulation, 1938.

(Received the assent of the Governor-General on the 17th December 1938 and published in the Calcutta Gazette of the end February 1939.)

A regulation to provide for the grant of loans for the relief of distress and improvement of lands in the Ctg. Hill Tracts.

Whereas it is expedient to provide for the grant of loans for the relief of distress and improvement of lands in the Chittagong Hill Tracts;

It is hereby enacted as follows: –

1.    Short title, extent and commencement – (1) This Regulation may be called the Chittagong Hill Tracts Loans Regulation, 1938;

(2)    It extends to the Chittagong Hill Tracts;

(3)        It shall come into force on such date as the Governor may, by notification in the Official Gazette, appoint;

2.   Definition – In this Regulation, unless there is anything repugnant un the subject or context, “improvement” means any work which adds to the letting value of land and includes the following, namely: –

(a)        the construction of dams, wells, tanks and other work or the installation of machinery for storage, supply or distribution of water for the purpose of agriculture.

(b)        the drainage, reclamation from rivers or other waters, or protection from floods, or land used for agricultural purposes;

(c)        such other works as the Governor may, from time to time, by notification in the official Gazette, declare to be improvement for the purposes of this Regulation.

3. Power for Provincial Government to make rules – The Governor may make rules as to loans to be made –

(a)        for the purpose of the relief of distress or the purchase of seed or cattle, to permanent residents of the Chittagong Hill Tracts, or

(b)        for the purposes of making any improvement, to any person having a right to make that improvement, or with the consent of that person, to any other person.

4.   Recovery of loans – Every loan made in accordance with the rules made section 3, all interest (if any) chargeable thereon, and costs (if any) incurred in making or recovering the same, shall, when they become due, be recoverable from the person to whom the loan was made, or from any person who has become surety for the repayment thereof, as if they were arrears of land revenue.

5.   Liability of joint borrowers as among themselves – When a loan is made under this Regulation to the members of a village community or to any other persons on such terms that all of them are jointly and severally bound to the Provincial Government for the payment of whole amount payable in respect thereof, and a statement showing the portion of the amount which as among themselves each is bound to contribute is entered upon the order granting the loan and is singed, marked or sealed by each of them or his agent duly authorised in this behalf and by the officer making the order, that statement shall be conclusive evidence of the protion of that amount which as among themselves each those persons is bound to contribute.

RULES

(As published with notification No. 2977 E. A. dated the 10th March 1939, at pages 553-554, Part I of the Calcutta Gazette, dated the 16th March 1939).

AGRICULTURAL LOANS.

1.      When there is distress due to drought, floods or other calamity, loans for the relief of such distress shall be sanctioned and disbursed with the least possible delay. Loans may also be given to enable the residents of the Ctg. Hill Tracts to purchase seed or cattle.

2. (1)       Loans shall be granted only on the joint bond system to groups of plough cultivators or jhumas and the amounts granted to each group shall not ordinarily exceed Rs. 200.

(2)      Loans for the purchase of seed or cattle shall be given in cash. Other loans shall ordinarily be given in kind though the cash value of the loan will be entered in the bond, but the Deputy Commissioner may, if he thinks it, in special cases, sanction disbursement of such loans cash.

3.      The Deputy Commissioner may empower revenue officers not below the rank of a Kanungo or Sub-Inspectors of Police to given loans under these rules up to a limit of Rs. 200 in each case, i.e., on one bond provided that the limit of funds at his disposal is not exceeded.

4. (1)      The Deputy Commissioner or the Sub-divisional Officers acting under his orders shall determine the principles to be followed by officers granting loans as regards the constitution of groups of borrowers, the general range of the amounts to be allotted to individuals in a group and the basis of fixing the amounts to be allotted to individuals, e.g., the extent of damage, the area of land cultivated, or the number of dependants to be supported.

(2)      It shall be the duty of the Deputy Commissioner or of the Sub-divisional Officer, as the case may be, to exercise the closest possible supervision over the work of disbursing Officer.

5.      The Deputy Commissioner or the Sub-divisional Officers acting under his orders shall issue instructions from time to time as to the method of disbursing loans and the execution of bonds which shall be in a form approved by the Commissioner and shall contain a clause that loan is recoverable as a public demand.

6.   (1)     The Deputy Commissioner shall fix the number of instalments in which the loan shall be repaid and the date on which each installment shall fall due.

(2)     The rate of interest on loans shall be one anna in the rupee or 6 ¾ percent per annum.

(3)       In calculating interest a period of half a month or less shall be disregarded and any period exceeding half a month shall be taken as one month.

(4)      No instalment shall be allowed to remain unpaid without either a formal order granting the suspension of the instalment, or a certificate being issued for realisation of the arrear.

7.  (1)      The Deputy Commissioner may grant suspensions of payment of instalments of loans, either by a general order relating to a specific area on account of failure of crops, or any other exceptional calamity, or by special orders, on account of circumstances beyond the control of the borrowers which would render the payment of the instalment unduly burdensome. All such general orders shall be reported to the Commissioner at the time that they are made, and the total sums covered by such special orders shall be report7ed to the Commissioner at the time of the submission of the annual return.

(2)      No interest shall be charged for the period of suspension and the payment of each remanding instalment due in respect of the loan shall be postponed to the date of the next instalment, and a now date fixed for the last instalment.

8.   Remission of loan or of a portion of a loan may be sanctioned only where the recovery of the loan in full would occasion serious hardship. Subject to this, the Deputy Commissioner may grant remission in the case of any one loan up to a limit of Rs. 25, and the Commissioner up to a limit of Rs. 200. Remission above this limit shall require the sanction of the Provincial Government.

LAND IMPROVEMENT LOANS.

9.      The Deputy Commissioner may grant loans for the purpose of making any improvement to any person having a right to make that improvement, or with the consent of that person, to any other person, but for loans exceeding Rs. 1,000 and not exceeding Rs. 5,000 for any one work, the previous sanction of the Commissioner shall be obtained, and for loans exceeding Rs. 5,000 for any work the previous sanction of the Provincial Government shall be obtained.

10. (1) An application for such loan shall be made to the Sub-divisional Officer and shall contain a description of the security, which the applicant proposes to offer. On receipt of such application the Sub-divisional Officer shall make an inquiry as to the necessity for the improvement for which the loan is applied for and the general condition of the applicant and the sufficiency of the security offered by him. For the purpose of such inquiry the Sub-divisional Officer may depute an officer not below the rank of a Kanungo to make local inquiry in regard to the objections, if any, to the proposed improvement.

(2)  If the Sub-divisional Officer is satisfied after inquiry about the necessity for the proposed improvement and the sufficiency of the security offered, the applicant shall be forwarded to the Deputy Commissioner with the result of such inquiry and thereupon the Deputy Commissioner shall, unless there is any special reason to the contrary, sanction such loan. An agreement in a form to be approved by the Commissioner shall be executed and registered by the applicant. Each application for loan under this rule shall be treated separately.

(3)  Yearly instalments for the repayment of the loan shall be fixed at the harvesting season. Not less than 10 and not more than 15 instalments shall be granted. Interest shall be calculated at 6 ¾ per cent.

(4)  When any instalment of the loan is due, either it shall be repaid or (if circumstances so demand) suspension of its payment shall be allowed or certificate for its realisation shall be filed. The provisions of rule 7 shall apply to the suspension of payment of instalments of such loans.

(5) (i) The risk of the failure of an improvement shall ordinarily be borne by the borrower and remission of principal or of interest or of both may be granted only in cases where a work fails from causes beyond the borrower’s control and where recovery of the loan in full would occasion serious hardship.

(ii) Subject to this restriction, the Deputy Commissioner may grant remission in the case of any one loan up to a limit of Rs. 50 and the Commissioner up to a limit of Rs. 500. Application for the remission of any amount exceeding Rs. 500 shall be submitted to the Provincial Government for orders.

Previous Older Entries

<span>%d</span> bloggers like this: